কিশোর গ্যাং অপসংস্কৃতি মোকাবেলায় নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এমন ঘোষণা দিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।
রবিবার (২২ ফেব্রয়ারি) ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ড ও ২৬ নম্বর উত্তর হালিশহর ওয়ার্ডে বাস্তবায়িত তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

মেয়র বলেন, গত ১৬ বছরে সমাজের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করেছে। তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে না পারলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। মাঠভিত্তিক ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড কিশোর অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা অপরিহার্য। সুস্থ দেহে সুস্থ মন গড়ে ওঠে। এই দর্শন বাস্তবায়নে নগরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মহসিন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্কুল মাঠ, বহুরূপী মাঠ, আকবর শাহ এলাকার ফিরোজশাহ মাঠ, আগ্রাবাদ শিশুপার্ক সংলগ্ন জাম্বুরি মাঠ এবং হালিশহর বিডিআর মাঠ উন্নয়ন বা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে।

মেয়র জানান, ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডস্থ হালিশহর এইচ ব্লক আবাসিক এলাকা মাঠের উন্নয়ন, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক কাজ প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৪০ হাজার বর্গফুট মাঠের চারদিকে ৭ ফুট প্রশস্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। ওয়াকওয়ের পাশে ৫ ফুট প্রশস্ত দৃষ্টিনন্দন বাগান গড়ে তোলা হয়েছে। মাঠ এলাকায় ১৩২টি গার্ডেন লাইট স্থাপন করা হয়েছে।
বাগানের ফাঁকে ৪৪টি বিশ্রাম বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ২৬৪ জন বসতে পারবেন। ২২ হাজার ৫০০ বর্গফুট আধুনিক সবুজ খেলার মাঠ, ৩ হাজার ৭৫০ বর্গফুট ইনডোর সুবিধা (টেনিস, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি), ৩ হাজার ৩৭৫ বর্গফুট কিডস জোন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বায়ু চলাচল উপযোগী দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
এরপর মেয়র ২৫ নম্বর রামপুর ওয়ার্ডস্থ হালিশহর এসি মসজিদ থেকে ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও গড়ে ৩৫ ফুট প্রশস্ত সড়কের উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন। রাস্তার উভয় পাশে ৪ থেকে ৫ ফুট প্রশস্ত স্ল্যাবসহ নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৭ থেকে ৯ ফুট প্রশস্ত বাগানসমৃদ্ধ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে- যা পথচারীদের চলাচলকে নিরাপদ ও আরামদায়ক করবে।
এছাড়া, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডস্থ মহেশখালের উপর প্রায় ১২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩.৭০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.৫০ মিটার প্রস্থের একটি সেতুর উদ্বোধন করেন মেয়র। সেতুর উভয় পাশে এপ্রোচ রোড, দৃষ্টিনন্দন ও নিরাপত্তা রেলিং এবং পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া ১.৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ মিটার প্রস্থের কার্পেটিং রোড, ৩০০ মিটার আরসিসি রোড, ৪৭৫ মিটার ফুটপাত, বিজিবি অফিসের সামনে ৩৫২ মিটার দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি ওয়াল, ১২০টি লাইট এবং ৬২ মিটার আরসিসি প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, এ সেতু চালু হওয়ায় দুই ওয়ার্ডের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং স্থানীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে গতি আসবে। চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ধারাবাহিকভাবে চলবে। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নই সিটি কর্পোরেশনের প্রধান লক্ষ্য।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের চট্টগ্রাম দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহমেদ, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) আবু সাদাত তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার জাহান, তাসমিয়া তাহসিন, সহকারী প্রকৌশলী মো. মোহাইমিনুল ইসলাম প্রমুখসহ চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও স্থানীয় ওয়ার্ড নেতৃবৃন্দ।


