রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

[the_ad id='15178']

স্বাস্থ্যখাতে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে সর্বোচ্চ বিনিয়োগের সুফল: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য খতে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “শুধু অর্থ বরাদ্দই যথেষ্ট নয়, সেই বিনিয়োগের সুফল যেন সাধারণ মানুষ পায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।”

- Advertisement -

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে মন্ত্রী ৩৮ নম্বর দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের ঈশান মিস্ত্রি রোডের আড়াই কিলোমিটারজুড়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক কার্পেটিং কাজ পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে নবনির্মিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের উদ্বোধন এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।

- Advertisement -shukee

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বাধিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে এখন চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—বিনিয়োগের যথাযথ প্রতিফল, প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি মূল্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিষয়। অতীতের মতো দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, বরং জনগণের সর্বাধিক উপকার নিশ্চিত করবে—এমন প্রকল্পেই সরকার বিনিয়োগ করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা কার্যকর হলে মেডিকেল কলেজ ও বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেবে, অবকাঠামো উন্নয়ন করবে। কিন্তু সেবার মান উন্নয়নের দায়িত্ব চিকিৎসক, প্রশাসন ও স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ করে হাসপাতাল পরিচালনা ও চিকিৎসাসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। শুধু বিনিয়োগ দিয়ে পরিবর্তন আসে না; প্রয়োজন পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা ছিল। বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নজিরবিহীন বিনিয়োগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই সরকারের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত প্রভাব এবং অতীতের আর্থিক দায় বহন করেও সাহসী ও জনকল্যাণমুখী বাজেট প্রণয়ন করেছে। এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো এই বরাদ্দের সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, যাতে দেশের মানুষ এর প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং উন্নত চিকিৎসাসেবা—দুই ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরজুড়ে মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, লার্ভা ধ্বংস এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু হওয়ায় রোগীরা দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবেন। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং সেবার পরিবেশ আরও উন্নত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শনিবার সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এ সময় মেয়র বন্দর থেকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায়ে সহযোগিতা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নগরবাসীর উন্নয়নে বিশেষ সহযোগিতার জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, জনবলসংকট নিরসন এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, হাসপাতাল পরিচালক, বিভাগীয় প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শনিবার সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও