চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আইন পেশা একটি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও মহৎ পেশা। এ পেশায় সফলতা অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম, সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাগত দায়িত্ববোধ অপরিহার্য। একজন শিক্ষানবীশ আইনজীবীকে তাঁর সিনিয়রদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত কর্মকাণ্ড, অভিজ্ঞতা ও নৈতিক মূল্যবোধ অনুসরণ করতে হবে। কঠোর পরিশ্রম ও সততা থাকলে এই পেশায় উন্নতি করা সম্ভব।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির অডিটরিয়ামে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, আজকের শিক্ষানবীশ আইনজীবীরাই আগামী দিনের বিজ্ঞ আইনজীবী। তাঁরা চট্টগ্রামের আইনজীবী সমাজের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, বীরত্ব ও পেশাগত মর্যাদা সংরক্ষণ এবং সমুন্নত রাখার ধারক-বাহক হবেন। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নবীন আইনজীবীদের দায়িত্বশীল ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আইনজীবীরা সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার সংরক্ষণ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। চট্টগ্রাম বারের আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি মরহুম অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে স্মরণ করে তাঁর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান। একইসঙ্গে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবী সমাজকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
মেয়র বলেন, আইন পেশায় শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পেশাগত আচরণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাও অত্যন্ত জরুরি। সিনিয়র আইনজীবীদের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বিকশিত করতে হবে। পেশার মর্যাদা রক্ষায় সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, আদালত অঙ্গনে ৯ হাজারের অধিক আইনজীবী রয়েছেন। এছাড়া জেলা জজশীপ, মহানগর জজশীপ, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকির সময়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। তিনি আইনজীবী সমিতির হেলথ কেয়ার সেন্টারে জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন থেকে ডেপুটেশনে একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়ার জন্য মেয়রের প্রতি জোর দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আবদুস সাত্তার বলেন, আজ যারা শিক্ষানবীশ হিসেবে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করছেন, ভবিষ্যতে তাঁরাই বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে আইন পেশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। পেশার মর্যাদা ও ডিগনিটি সমুন্নত রাখতে তাঁদের সচেষ্ট হতে হবে এবং পেশাগত নীতি ও আদর্শ বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হক ও জেলা জি.পি মো. কাশেম চৌধুরী।
এসময় সমিতির সহসভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন লাভলী, অর্থ সম্পাদক আবুল মনছুর সিকদার, পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদ হোছাইন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিলকিস আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক সরোয়ার হোসাইন লাভলু, নির্বাহী সদস্য আলী আকবর, সাদিয়া খান, জসিম উদ্দিন হিমেল, মো. ইকবাল হোসেন, মোমেনুল হক, মোহাম্মদ হাসান, দিলদার আহম্মদ ভূঁইয়া, মোক্তার উদ্দিন সাগর, দিদারুল আলম টিপুসহ সমিতির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির চার শতাধিক শিক্ষানবীশ আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় নবীন আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আইন ও আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জন এবং পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
ছবির ক্যাপশন:
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে শিক্ষানবীশ আইনজীবীদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

