বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

বেকারত্ব দূরীকরণে নতুন বছরে দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনা করুন আজই

মো. তৌহিদুল ইসলাম

বছরের শুরুর দিনগুলোতে আমাদের সবার মধ্যেই একটি নতুন প্রত্যাশা কাজ করে -পুরোনো সীমাবদ্ধতাগুলো পেছনে ফেলে নতুন বছরটিকে সুন্দরভাবে সাজানোর। বিশেষ করে যাদের ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে, তাদের জন্য এই সময়টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই চলুন, বছরের শুরুতেই দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থান তৈরিতে আগ্রহী যুবকদের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক।

- Advertisement -

কী কী করা যায়?

- Advertisement -shukee

শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চলতি বছরে চট্টগ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে নানা ট্রেডভিত্তিক কোর্স প্রদান করা হচ্ছে। এসব কোর্স স্থানীয় যুবসমাজ ও অন্যান্য নাগরিকদের কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমান সময়ে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা শুধু ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত জরুরি-বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে। এ লক্ষ্যেই বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নতুন ব্যাচে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করেছে, যেখানে পেশাদার প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রামে কোথায় বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ নেয়া যায়?

চট্টগ্রাম মহানগরী ও আশপাশের এলাকার নাগরিকদের জন্য জনশক্তি ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (BKTTC), চট্টগ্রাম আধুনিক কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। এখানে ওয়েল্ডিং, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, CNC   মেশিন অপারেশন, কম্পিউটার অপারেশন, RAC (এয়ার কন্ডিশনিং ও রেফ্রিজারেশন)সহ বিভিন্ন অকুপেশনে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারের উপযোগী করে তুলতে কাজ করছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নারীদের জন্য বিশেষভাবে কম্পিউটার, ড্রেস মেকিং, টেইলরিং, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন কার্যকরী দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে- যা নারীদের স্বনির্ভরতা ও আত্মকর্মসংস্থানে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

UCEP Bangladesh-Gi TVET (Technical and Vocational Education and Training) উদ্যোগের আওতায় সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত তরুণদের জন্য IT, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন কোর্স পরিচালিত হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের আধুনিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তুলছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সরকারি উদ্যোগে দেশের ৬,০০০ জন SSC পরীক্ষার্থীকে কম্পিউটার, গ্রাফিক্স ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন স্কিল-ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আঞ্চলিক পর্যায়ের উদ্যোগ

আঞ্চলিক পর্যায়েও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেরে কার্যক্রম লক্ষণীয়। ফটিকছড়ির এবিসি তুরস্ক কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, রাউজান টিটিসি, কক্সবাজার টিটিসি এবং সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন উপজেলার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে কম্পিউটার, প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক্যাল ইনস্টলেশনসহ নানা কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতাই যথেষ্ট নয়; সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কারিগরি দক্ষতা ও বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করাই সফল ক্যারিয়ারের মূল চাবিকাঠি।

তাই নতুন বছরকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট সকল নাগরিককে এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের কর্মদক্ষতা বাড়ানো এবং আত্মউন্নয়নের পথে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো জানিয়েছে, কোর্সভিত্তিক ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও যোগাযোগের তথ্য তাদের নিজ নিজ অফিস ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। আগ্রহী প্রার্থীরা সময়মতো আবেদন করলে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনাও পেতে পারেন।

নতুন বছর ২০২৬ হোক দক্ষতা অর্জনের বছর, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বৃদ্ধির বছর-এবং দেশের উন্নয়নযাত্রায় আপনিও হোন একজন সক্রিয় অংশীদার।

লেখকঃ প্রেসিডেন্ট – বাংলাদেশ সোসাইটি অফ ওয়েল্ডারস

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও