ক্ষুদিরাম পাঠাগারের উদ্যোগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মরণে আজ শুক্রবার (২৬জুন) নগরীর এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ক্ষুদিরাম পাঠাগারের সংগঠক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ নেওয়াজ এর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন এয়াকুব আলী দোভাষ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বন্দনা দেব, সেন্ট প্লাসিডস স্কুলের শিক্ষক মিশু দত্ত, শিশু কিশোর মেলার সম্পাদক দীপা মজুমদার, ক্ষুদিরাম পাঠাগারের সংগঠক রিপা মজুমদার। আলোচনা সভা পরবর্তীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রবীন্দ্রনাথ-নজরুল স্মরণে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, বাংলা সাহিত্যের দুজন মহান প্রতিভাধর ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল এর সাহিত্য মানুষের চিন্তা জগতকে আলোড়িত করেছিল। মানবতার কথা যেমন বলেছেন তেমনি শোষণ-বৈষম্য নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এই দুই মহান কবি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যের সব ভান্ডারে বিচরণ করেছেন। সত্যের জন্য কথা বলেছেন,মনুষ্যত্বের কথা বলেছেন। সব কিছুর উর্ধ্বে তুলে ধরেছেন মানুষকে। বিদ্রোহী কবি নজরুলের গান আমাদের দেশের প্রতিটি আন্দোলনে জাগরণ তৈরি করে। মানুষে মানুষে ভেদ,ধর্মীয় কুসংস্কার, সাম্প্রদায়িক নীচতার বিরুদ্ধে কবির লেখেনিতে তীব্র প্রতিবাদ ছিল। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল আজও আমাদের সমাজে প্রাসঙ্গিক। শিল্প-সংস্কৃতির মান আজ ক্রমাগত নিচে নামছে। মানুষের সব মূল্যবোধকে, সমস্ত সংবেদনশীলতাকে আজ নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ-নজরুল এর চেতনাকে ধারণ করে আমাদের এই সংকটময় সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। বড় মনীষীদের জীবনী চর্চা করতে হবে। তাঁদের কর্ম থেকে রসদ নিয়ে সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।


বক্তারা আরও বলেন,আজ সারা দেশব্যাপী ধর্ম নিয়ে হানাহানি, বিদ্বেষ বাড়ছে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা,নির্যাতন বাড়ছে। নীতি,নৈতিকতা, মূল্যবোধের সংকট তা দূর করার জন্য আমাদের এই বড় মনীষীদের স্মরণ করতে হবে। আমাদের সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে। পাড়ায়-মহল্লায় পাঠাগার, খেলার মাঠ গড়ে তোলা সহ নানান আয়োজনে শিশু-কিশোর ও তরুণদের যুক্ত করতে হবে। সমাজের এই নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন হতে হবে। বক্তারা রবীন্দ্রনাথ-নজরুল সহ সকল মনীষী চর্চার আহ্বান জানান।


