বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

[the_ad id='15178']

নাগরিকদের সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে: চসিক মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যান, খেলার মাঠ, জলাধার ও উন্মুক্ত স্থান সমূহের আধুনিকায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করার ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -

বুধবার (২৪জুন)  চসিকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে প্রায় ৩০১ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপস্থাপন করেন। সভায় প্রস্তাবটির বিভিন্ন দিক নিয়ে পর্যালোচনা হয়। চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। প্রাপ্ত মতামতের আলোকে প্রস্তাবটি সংশোধন করে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়। মেয়র সংশ্লিষ্ট কনসালট্যান্ট ও কর্মকর্তাদের প্রকল্পটি বাস্তবসম্মত, টেকসই এবং নগরবাসীর চাহিদা বিবেচনায় পুনর্বিন্যাসের নির্দেশনা দেন।

- Advertisement -shukee

সভায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম দ্রুত বর্ধনশীল একটি মহানগরী। কিন্তু নগরায়ণের চাপে খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, জলাধার ও সবুজ এলাকার পরিমাণ ক্রমেই কমে যাচ্ছে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা, তরুণদের ক্রীড়া চর্চা, প্রবীণদের হাঁটাচলা এবং নাগরিকদের অবসর বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত উন্মুক্ত স্থান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, আমরা চট্টগ্রামকে শুধু অবকাঠামোগতভাবে নয়, পরিবেশগত ও সামাজিকভাবেও একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও মানবিক নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সেই লক্ষ্যেই নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মাঠ, পার্ক, জলাধার ও উন্মুক্ত স্থানসমূহকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নাগরিক সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, প্রস্তাবিত উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে মাঠগুলোতে আধুনিক খেলার সুবিধা, হাঁটার পথ, সাইকেল ট্র্যাক, শিশুদের বিনোদন জোন, নারী ও পরিবারবান্ধব উন্মুক্ত স্থান, পাবলিক টয়লেট, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। জলাধারগুলোকে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃষ্টির পানি ধারণ এবং নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধির উপযোগী করে উন্নয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ নগর গড়ে তুলতে এ ধরনের উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ ও উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই নগরবাসী নিজ নিজ এলাকার নিকটেই মানসম্মত বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটিতে পরিণত করার যে অঙ্গীকার আমরা করেছি, এই প্রকল্প সেই ভিশন বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসীর জীবনমান উন্নত হবে, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি পাবে এবং চট্টগ্রাম আরও আকর্ষণীয় ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।

প্রস্তাবটিতে ১১টি মাঠ, ২টি জলাধার, ৩টি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং ৩টি আরবান সড়ক উন্নয়নের প্রস্তাব উঠে আসে। প্রস্তাবিত সম্ভাব্য মাঠের মধ্যে আছে চাক্তাই স্কুল মাঠ উন্নয়ন, ফিরোজ শাহ ঈদগাহ মাঠ উন্নয়ন, ফরেস্ট ইন্সটিটিউট উন্নয়ন, শহীদ শাহজাহান মাঠ (শহীদ ওয়াসিম আকরাম পার্কের নিকটে) উন্নয়ন, হালি শহর এস ক্লাব মাঠ উন্নয়ন (বি ব্লক), হালি শহর হাউজিং এস্টেট মাঠ উন্নয়ন, প্যারেড মাঠ উন্নয়ন (চট্টগ্রাম কলেজ মাঠ, ১৬ নং ওয়ার্ড চকবাজার), বালুর মাঠ মাদারবাড়ি উন্নয়ন, বাকলিয়া স্টেডিয়াম উন্নয়ন (কর্ণফুলি ব্রীজ সংলগ্ন), সারাইপাড়া ঝর্ণাপাড়া মাঠ (১২ নং ওয়ার্ড), আমিন টেক্সটাইল মাঠ (০২ নং ওয়ার্ড জালালাবাদ)।

উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত জলাধার ২টি হল বলুয়ার দিঘী উন্নয়ন এবং মুন্সী বাড়ী পুকুর উন্নয়ন। প্রস্তাবনায় বক্স আলী রোড (৩৯ নম্বর ওয়ার্ড) নয়ারহাট বন্দর এলাকা, পোস্তারপার হইতে দেওয়ান হাট ওভার ব্রিজ পর্যন্ত (২৩ নম্বর ওয়ার্ড) এবং ফিরোজ শাহ মিনারের এর নিকটবর্তী এলাকা (৯ নম্বর ওয়ার্ড) উন্নয়ন অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। এছাড়া, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উন্নয়নের অংশ হিসেবে আউটার স্টেডিয়াম উন্নয়ন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম পার্ক এবং বাটালী পাহাড় উন্নয়নের প্রস্তাব করা হয় সভায়।

ক্যাপশন- প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন বিষয়ক সভায় বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও