“Morning shows the day.” এ জনপ্রিয় ইংরেজি প্রবাদের অর্থ হলো, “সকালটাই বলে দেয়,পুরো দিনটি কেমন যাবে। ”দিনের শুরুটা যেমন হয়,তার ওপর ভিত্তি করে পুরো দিনের কাজের গতি, সাফল্য ও মেজাজ কেমন হতে পারে- তা অনুমান করা যায়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটিকে মেলালে পরিস্কার হয়ে যায়, তিনি একজন কর্মদক্ষ,বিচক্ষণ,দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী মানুষ। বলা যায়,একজন করিৎকর্মা লোক। ১৭জুন ২০২৬ তারিখে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকেই তিনি বিরামহীন কর্মতৎপরতা শুরু করে নগরবাসীর নজর কেড়েছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছেন।
সিডিএ’র চলমান প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে তিনি মিডিয়ার মাধ্যমে যেসব ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছেন তাতে মনে হয়, নগরউন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে যেসব জঞ্জাল তৈরি হয়েছে, অনিয়ম-দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে, সেই ক্ষত কিছুটা হলেও তিনি সারাতে পারবেন। একজন নগরউন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে যেসব গুণাবলী থাকা প্রয়োজন, তাঁর মধ্যে যে তা আছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নগরএলাকার সংসদ-সদস্যবৃন্দ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সকল সরকারি সেবাসংস্থার প্রধানদের সাথে সমন্বয় করে তিনি নগরউন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছেন। শহর এলাকার সংসদ-সদস্যদের সাথে তিনি ইতোমধ্যে বৈঠক করে ফেলেছেন, তাঁদের পরামর্শ মনোযোগসহকারে শুনেছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি নগরের আলোচিত তিনটি মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন করার লক্ষ্য নিয়ে তিনি কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন।


মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা প্রকল্পগুলো তিনি শিগগির চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উন্নয়নকাজে কোয়ালিটির ব্যাপারে তিনি বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ। ভবনের নকশা অনুমোদনে অহেতুক দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতা নিরসন করে দ্রুত সেবা প্রদানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারিদের যথাসময়ে অফিসে আসার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যদি সকাল ৯টায় অফিসে আসতে পারেন, আমরা কেন পারবো না। তিনি সকলকে সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে আসার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে
ন। তাই, আমি নিজেও দুর্নীতি করবো না, অন্যদেরও দুর্নীতি করতে দেবো না। তবে এ ব্যাপারে তিনি সিভিল সোসাইটি, সংবাদমাধ্যম, সিডিএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এই কদিনে মিডিয়াসহ বিভিন্ন ফোরামে নগরউন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে যা বলেছেন, তার সারমর্ম হলো- তিনি সবুজায়নের সংরক্ষণ, বর্জ্যব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ দূষণরোধে কঠোর ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বাসাবাড়ি-দোকানপাটের ময়লা-আবর্জনা ড্রেন ও যেখানে-সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। ফুটপাতকে অবমুক্ত রাখার কথা বলেছেন। তিনি স্বশরীরে গিয়ে সিডিএভবনের সামনের ফুটপাতের ভাসমান দোকানগুলো উচ্ছেদ করেছেন।

ইমারত-নির্মাণের বিধিমালা মেনে তিনি ভবননির্মাণ নিশ্চিত করতে চান এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে তিনি তাৎক্ষণিক আইনী পদক্ষেপের নেয়ার কথা বলেছেন। তাঁর প্রত্যাশা, নগরের সৌন্দর্যের জন্যে ভবনগুলো একই নকশা অনুসরণে নির্মিত হবে। ছয়তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে বারোতলা করা চলবে না। নগরের সকল অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা হবে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমার নেতা, চট্টগ্রামের অভিভাবক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু চৌধুরী মহোদয় আমাকে বলেছেন, এ নগরে যদি আমারও কোনো অবৈধ স্থাপনা থাকে, তা ভেঙ্গে ফেলা হোক। সিডিএ চেয়ারম্যান বলেছেন, যেকোনো উন্নয়নপ্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতামত গ্রহণ, আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং দরপত্র ও বাজেটে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। এছাড়া তিনি ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মতো প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলার জন্যে উন্মুক্ত স্থান রাখা এবং বহুতলভবনে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা,টেকসই অবকাঠামো ও পরিবেশবান্ধব জীবন-যাপনের ওপর গুরত্বারোপ করে চাটগাঁর বাণীকে বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ,দ্রুতগতির ইন্টারনেট, মানসম্মত পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা, যানজট নিরসন,জলাবদ্ধতা দূরিকরণ নিশ্চিত করা ছাড়া বিশ্বমানের নগর কল্পনা করা যায় না। তিনি যোগ করেন, আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতাল,গবেষণাগার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। পর্যাপ্ত পার্ক,জলাশয়,বর্জ্যব্যবস্থাপনার আধুনিক প্রযুক্তি এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
চট্টগ্রামের মতো বড় ও সম্ভাবনাময় শহরের নাগরিক নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, “অপরাধ দমনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার এবং সার্বক্ষণিক জরুরি সেবার (যেমনঃ অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ারসার্ভিস) দ্রুত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থনৈতিক সুযোগ বিশেষ করে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে হলে বিশ্ব অর্থনীতির সাথে সরাসরি সংযোগ, বহুজাতিক কোম্পানির সদর দপ্তর স্থাপন ও সহজে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনার সুবিধা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

সিডিএ’র চেয়ারম্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার অনুভূতি ব্যক্ত করতে যেয়ে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন,চসিক চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম ওয়াসার এমডি ও নগর এলাকার মাননীয় এমপি যারা আছেন, সবাই একই মতাদর্শের অনুসারী,এক ও অভিন্ন। চট্টগ্রামশহর উন্নয়নের ব্যাপারে আমরা সকলেই ঐক্যবদ্ধ। আমরা সবাই যদি মিলেমিশে সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্তরিকভাবে কাজ করি,তাহলে চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের নগরে রূপান্তর করা কঠিন কোনো কাজ নয়।
নবনিযুক্ত সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন সাগরকন্যা সন্দ্বীপের কৃতিসন্তান। তিনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সন্দ্বীপ আসন থেকে এমপি পদে দলীয় মনোয়ন চেয়েছিলেন।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন চাটগাঁর বাণীর প্রধান- সম্পাদক মোহাম্মদ ইউসুফ


