চট্টগ্রাম বন্দরের লাভজনক নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে ইজারা চুক্তির প্রতিবাদে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকালে বন্দর ভবন এলাকায় সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর পর মিছিল নিয়ে জোটের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত বন্দর শ্রমিক কর্মচারীদের সমাবেশে যোগ দেন। কাস্টমস মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড শাহ আলম, গণমুক্তি ইউনিয়ন জেলা সভাপতি কমরেড রাজা মিঞা, সিপিবি জেলা সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাসদ ( মার্ক্সবাদী) জেলা সমন্বয়ক এডভোকেট শফিউদ্দিন কবির আবিদ, বাসদ চট্টগ্রাম জেলা ইনচার্জ কমরেড আল কাদেরী জয়,বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা কমিটির সদস্য জাহেদুন্নবী কনক, সংহতি জানান শ্রমিক নেতা সত্যজিৎ বিশ্বাস।


নেতৃবৃন্দ বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ঢাকায় ইনভেস্ট কার্যালয়ের সামনে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদরত আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও লাঠিচার্জে সিপিবি কেন্দ্রীয় সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন,বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা সীমা দত্তসহ ১০ জন আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
নেতৃবৃন্দ আজকের দিনটিকে দেশের ইতিহাসের ‘একটি ঘৃণ্য কালো দিন’ উল্লেখ করে বলেন,“বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারী,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞদের আপত্তিসত্ত্বেও বিএনপি সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান টার্মিনাল এনটিসি ইজারা দিতে আজ ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি সই করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তবর্তীকালীন সরকার এনটিসি ইজারা দিতে নানা উদ্যোগ নিয়েও আন্দোলনের ফলে ইজারা দিতে পারেনি। বিএনপি তাদের এ জাতীয় স্বার্থবিরোধী অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করলো। আজ চুক্তি স্বাক্ষর হলেও,এখন পর্যন্ত ডিপি ওয়ার্ল্ড মাশুলের কত অংশ ও সরকার কত অংশ পাবে,লাভজনক হবে কিনা,নিরাপত্তা ঝুঁকি কি আছে ইত্যাদিসহ কোনো শর্তই প্রকাশ করা হয়নি। শুধু বলা হচ্ছে, ডিপি ওয়ার্ল্ড ১৫ বছরে ১৫ কোটি ডলার বা ১৮৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে- বছরে মাত্র ১২২ কোটি টাকা। এর বিনিময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান টার্মিনাল তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে বিএনপি জোট সরকার। অথচ দেশীয় ব্যবস্থাপনায় নিউমুরিং টার্মিনাল ২০২৫ সালে মোট মুনাফা করেছে ২৫০০ কোটি টাকা,মোট আয় করেছে ৪৫০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ডিপি ওয়ার্ল্ড মাত্র ৯ মাসেই তাদের ১৫ বছর ধরে বিনিয়োগকৃত ১৮৩০ কোটি টাকা তুলে আনতে পারবে। অথচ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় থাকলে,দেশেই এ পুরো টাকাটা থাকতো। এখন এ চুক্তির ফলে বন্দরের আয়কৃত রাজস্বের সিংহভাগই বিদেশে চলে যাবে।”

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে শুধু দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ যুক্ত নয়,এর সাথে ভূকৌশলগত স্বার্থ,রাজনৈতিক, সামরিক ও সার্বভৌমত্বের বিষয়ও যুক্ত। দেশের ও চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব চার হাজার কোটি টাকায় নিউমুরিং টার্মিনাল নির্মাণ ও অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছিল এবং এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি কন্টেইনার টার্মিনাল।বিএনপি সরকার আরব আমিরাত ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে খুশি করতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে তড়িঘড়ি চুক্তি সই করেছে। অন্যদিকে বিরোধীদল জামাত,এনসিপিও সাম্রাজ্যবাদীদের খুশি রাখতে এরকম আত্মঘাতী জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির কোনো বিরোধিতা করছেনা। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতি,জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকিতে ফেললো। আমরা বন্দরের শ্রমিককর্মচারীসহ সর্বস্তরের জনগণকে এ চুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানাই। ”
নেতৃবৃন্দ সমাবেশ থেকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে সম্পাদিত চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের আহবান জানান এবং অবিলম্বে এ জাতীয় স্বার্থবিরোধী টুক্তি বাতিলের জোর দাবি জানান।

