শতবর্ষে পদার্পণ করা কৃষ্ণকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি বিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শতবর্ষী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সরকারিকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বড় সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার ( ৮অক্টোবর ) নগরীর কৃষ্ণকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ৬তলা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন এবং বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জাহানুর খানের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আজ আমাদের জন্য একটি বিশাল দিন। আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষিত ভবনটি পেয়েছি। ভবন নির্মাণ করলেই হবে না; এই ভবনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, এই শতবর্ষী বিদ্যালয়কে সরকারি বিদ্যালয়ে পরিণত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এটি তোমাদের জন্য একটি বিশাল সুযোগ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানকে সরকারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না; তাদের ভবিষ্যৎ পৃথিবীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই আমাদের বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। আমরা একটি পরিবেশবান্ধব বা ইকো-ফ্রেন্ডলি শহর গড়ে তুলতে চাই। এই স্বপ্ন শুধু একজনের হলে হবে না, সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এর আগে বিদ্যালয়ে আয়োজিত বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প পরিদর্শন করেন মেয়র। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উপস্থাপনার প্রশংসা করেন তিনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন মেয়র।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, চসিকের প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক জাহানুর খানের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁর অবসরজীবনের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনা করা হয়। একই সঙ্গে নবনির্মিত ভবনটি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

