বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা করেছে সিপিবি- চট্টগ্রাম জেলা শাখা। সভায় নেতারা বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, শ্রমিক-মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ ও সংগ্রামী জীবন থেকে শিক্ষা নেয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
আজ শুক্রবার (৯অক্টোবর ) নগরের হাজারী লেনে সিপিবি’র জেলা কার্যালয়ে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। শুরুতে কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন নেতাকর্মীরা।


সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড অশোক সাহার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি কমরেড শাহ আলম, কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড মৃণাল চৌধুরী, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, প্রবীণ শিক্ষক নেতা অধ্যাপক রণজিৎ দে, নারী নেত্রী রেখা চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড শওকত আলী, অ্যাডভোকেট হারাধন দে ও শ্রমিক নেতা ফজলুল কবির মিন্টু। সভা সঞ্চালনা করেন জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য।
বক্তারা বলেন, কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ ছিলেন বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক ও জননেতা। শ্রমিক- কৃষকসহ মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজতান্ত্রিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা, আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দৃঢ় থাকার ক্ষমতা তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ অবস্থানে নিয়ে যায়।
১৯৩৮ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার জমাদারপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মোহাম্মদ ফরহাদ। ১৯৫৪ সালে মার্ক্সবাদ-লেনিনবাদে দীক্ষিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি সিপিবির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
নেতারা বলেন, ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে কমরেড ফরহাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলন সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং শ্রমিক, কৃষক, ছাত্র, যুব ও নারী আন্দোলনেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য।

বক্তারা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় তাঁর অনেক অবদান সাধারণ মানুষের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও সিপিবিকে সুসংগঠিত করা এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে তিনি নিরলস কাজ করেছেন।
১৯৮৭ সালের ৯ অক্টোবর মস্কোতে মৃত্যুবরণ করেন কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ। তাঁর মৃত্যুতে বামপন্থী রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেন নেতারা।
স্মরণসভা থেকে ঘুষ-দুর্নীতি, লুটপাট, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রাম এগিয়ে নিতে কমরেড ফরহাদের আদর্শ অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

