তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কার্যালয়ে বিক্ষোভ করছেন স্বাস্থ্য বিভাগের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে আরবান প্রাথমিক হেলথকেয়ার সেন্টার (নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র) হস্তান্তর প্রকল্পের আওতায় তাঁদের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চসিক কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁদের ভাষ্য, তিন মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরভাড়া দিতে পারছেন না, সন্তানের স্কুলের বেতনও পরিশোধ করতে পারছেন না।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, তারা চসিকের স্থায়ী জনবল। উন্নয়ন প্রকল্পের অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক জনবল হিসেবে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে চাকরির বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করলেও গত তিন মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। এর মধ্যে তাদের আরবান হেলথ প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার উদ্যোগে তারা উদ্বিগ্ন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর চসিকের মেয়রের কাছে দেয়া এক আবেদনে স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আরবান হেলথ প্রকল্পে তাদের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত বাতিল করে চসিকের নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় স্বপদে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।
আবেদনে বলা হয়, এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চসিকের স্থায়ী পদে নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁদের নিয়োগ, পদায়ন, বেতন-ভাতা, জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি, বদলি ও অবসরকালীন সুবিধা চসিকের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত।
কর্মীদের আশঙ্কা, তাদের কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নেওয়া হলে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ, কার্যক্রম পরিবর্তন বা পুনর্গঠনের সময় চাকরির নিশ্চয়তা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, ছুটির টাকা ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তারা দাবি করেছেন, আরবান প্রকল্পের আওতায় শুধু প্রকল্পভিত্তিক বা চুক্তিভিত্তিক জনবল এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম রাখা হোক। চসিকের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামোর আওতায় রেখে তাঁদের বিদ্যমান চাকরির অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা অক্ষুণ্ণ রাখারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

