নিজের ঘর, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার। শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।”
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর কাজীর দেউরী স্টেডিয়াম মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রতিটি ওয়ার্ডকে পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে আমরা কাজ করছি। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম তদারক করবেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।”
মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির পানি জমার স্থান, পরিত্যক্ত পাত্রসহ সম্ভাব্য সব প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি বলেন, “যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক, পলিথিন, ফোম কিংবা ডাবের খোসা ফেলে রাখা যাবে না। সামান্য স্বচ্ছ পানি জমে থাকলেও সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। তাই বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।”
চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্বীকৃত বিটিআই (BTI) ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, কোতোয়ালী, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রামের চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে মেয়র বলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৭৪২ জন। তবে নগরীর পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, “ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, জিকা ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও রয়েছে। তাই রোগী শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং নগরবাসীকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা।”
মেয়র জানান, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আগামী তিন মাস চট্টগ্রাম নগরীর প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, “নিজের ঘর, নিজের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিক ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করলে সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।”

