মায়েদের স্বস্তি এবং শিশুদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে মাতৃদুগ্ধপান নিশ্চিত করতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নগরীর কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে দুটি ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় কর্নার দুটি স্থাপন করা হয়েছে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান। প্রতিদিন এখানে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসেন। তাদের মধ্যে অনেক মা শিশুদের নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কিন্তু উপযুক্ত ও নিরিবিলি পরিবেশের অভাবে অনেক সময় তারা সন্তানকে স্বাভাবিকভাবে বুকের দুধ পান করাতে পারেন না। মায়েদের এই বাস্তব সমস্যার কথা বিবেচনা করেই এখানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “অনেক সময় জনসম্মুখে শিশুকে বুকের দুধ পান করাতে মায়েরা অস্বস্তিবোধ করেন। ফলে শিশু কান্না করলেও প্রয়োজনীয় সময়ে তাকে দুধ পান করানো সম্ভব হয় না। মায়েদের এই অস্বস্তি দূর করে শিশুদের প্রয়োজনীয় সময়ে মাতৃদুগ্ধপানের সুযোগ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।”
চিকিৎসক হিসেবে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শিশুর জীবনের প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মায়ের দুধে থাকা পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধে সহায়ক উপাদান শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মায়েদের জন্য এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যেখানে তারা নির্বিঘ্নে সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে পারেন।
মেয়র বলেন, একটি সুস্থ ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; নাগরিকদের প্রয়োজনীয় মানবিক সেবাও নিশ্চিত করতে হবে। ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ একটি মানবিক ও জনবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার অংশ।
তিনি জানান, কর্ণফুলী ব্রিজ এলাকা ও কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশাপাশি নগরীর বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন, বাস স্টেশন, পতেঙ্গাসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‘মায়েদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে জায়গা দেওয়ায় চসিককে ধন্যবাদ’
অনুষ্ঠানে ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউল হক পলাশ বলেন, মায়েদের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ। একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থানে এই সেবা চালুর জন্য জায়গা দেওয়ায় আমরা চসিকের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী আসেন। তাদের মধ্যে অনেক মা শিশুদের নিয়ে আসেন। এই কর্নারের নির্মাণকাজ চলার সময়ও মায়েদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। নির্মাণকাজে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অনেক মা শিশুদের নিয়ে এসে তাদের সন্তানকে বুকের দুধ পান করানোর জন্য কয়েক মিনিট সময় দেয়ার অনুরোধ করতেন। এমনকি নির্মাণকাজ চলমান থাকা অবস্থায়ও তারা সেখানে এসে শিশুকে দুধ পান করিয়েছেন।
জিয়াউল হক পলাশ বলেন, “এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায়, মায়েদের জন্য এমন একটি নিরাপদ ও নিরিবিলি জায়গার কতটা প্রয়োজন ছিল। আমরা চেষ্টা করছি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে এই সেবাটি পৌঁছে দিতে।”
তিনি জানান, চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় স্থাপিত ব্রেস্ট ফিডিং কর্নারটি চালুর প্রায় এক মাসের মধ্যে ১৩৫ জন মা সেবা নিয়েছেন। এ থেকেই নগরীতে এ ধরনের সেবার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়।
তিনি বলেন, “আশা করছি, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত এই ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার থেকে আরও অনেক মা সেবা নিতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতেও এ সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।”
নিজের উদ্যোগের বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জিয়াউল হক পলাশ বলেন, “এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমার চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে যারা সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, মেয়র এবং চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
অনুষ্ঠানে ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক পলাশ, Foodi Express Limited-এর সিইও মো. শাহনেওয়াজ মান্নানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
ডাকবাক্স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত এ কার্যক্রমের মূল প্রত্যয়—“যতনে যতনে ভরে উঠুক বাংলাদেশ।”

