জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাইকে ভুলিয়ে দেয়ার মতো কিছু হয়ে থাকলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা তছনছ করে দেয়া হবে। জীবন তো একটাই, সেই জীবন জাতির জন্য উৎসর্গ হোক। এই ইস্যুতে বৃদ্ধ আর যুবক একাকার।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ওয়ান ইনিশিয়েটিভ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওআইআরডি) আয়োজিত ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জুলাই ইস্যু ভুলিয়ে দেয়ার জন্য আমাদের অনেক লোভ-টোপ প্রস্তাব, অনেক কিছু দেয়া হচ্ছে। আমাদের সোজা-সাপ্টা কথা, জনগণের রায় মানতে হবে, আমাদের কোনো রায় নেই। এর বাইরে আমরা যাব না, যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না।
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে যার যে অবদান আছে, তা সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একাত্তরে একজন নিষ্পাপ মানুষও যদি মারা যায়, সেটার জন্য আমরা গোটা জাতি দুঃখ-কষ্ট পাই। কিন্তু আফসোস, ৫৫ বছর চলে গেলেও মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিক তালিকা তৈরি হয়নি। সঠিক-বেঠিক হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা আছে, কিন্তু শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো তালিকা নেই। আমি শুনেছি-৬৫৫ জন ভাতা পান।
আমরা এত লাখ, এত লাখ বলছি, কিন্তু সেটা তো রেকর্ড হচ্ছে না। এটা তো সরকারের দায়িত্ব। এতগুলো সরকার এলো-গেল, সবাই দাবি করেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে স্টেকহোল্ডার। স্টেকহোল্ডারদের আমরা সম্মান করি। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটা করছেন না কেন? এটা করেন, ইতিহাসটা উঠে আসুক, ওই ফ্যামিলিটা গ্লোরিফাই হোক। শহীদদের আত্মা শান্তি পাক। একাত্তরের মতো চব্বিশ যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য এই বই প্রকাশের উদ্যোগের জন্য মোবারকবাদ জানাই।
সঠিক ইতিহাস রচনার জন্য সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কারণ-চব্বিশের আন্দোলনের সময় রাজনীতিকদের কন্ঠে যে সুর ছিল, ৫ তারিখের পর থেকে আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে। এ বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির পর ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। আগে যেসব কথা বলেছেন ও অঙ্গীকার করেছেন, অনেকে এখন সেটা বেমালুম ভুলে গিয় ঠিক বিপরীতে গিয়ে ন্যারেটিভ দাঁড় করাচ্ছেন, বয়ান তৈরি করছেন।
তিনি বলেন, জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় এখন সরকার মানবে না। ইনশাআল্লাহ অবশ্যই মানতে হবে। এতগুলো খুন-গুম, নির্যাত হলো-তার বিচার এখন স্থবির হয়ে পড়েছে। আগের সরকারের সময় যেটুকু গতি ছিল, সেটাও এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জুলাই স্মৃতি যাদুঘর খুলে দেয়ার দাবি সংসদে জানিয়েছিলাম, সরকার ৫ আগস্ট খুলে দেয়ার কথা বললেন, কিন্তু ৪ আগস্টেও কোন আলামত দেখা যাচ্ছে না। কি হচ্ছে এগুলো? তাহলে কি জুলাইকে ভুলিয়ে দেয়ার নিরন্তর সংগ্রাম শুরু হয়েছে? যদি সেরকম কিছু হয়ে থাকে তাহলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তছনছ করে দেয়া হবে। জীবনতো একটাই, সেই জীবন জাতির জন্য উৎসর্গ হোক। এই ইস্যুতে বৃদ্ধ আর যুবক একাকার।
জামায়াত আমির বলেন, এই ইস্যু ভুলিয়ে দেয়ার জন্য আমাদের অনেক লোভ-টোপ প্রস্তাব, অনেক কিছু দেয়া হচ্ছে। আমাদের সোজা-সাপ্টা কথা-জনগণের রায় মানতে হবে, আমাদের কোনো রায় নেই। এর বাইরে আমরা যাব না, যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। আমরা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না।
তিনি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের গায়ে হাত দিবেন না। যে জুলাইযোদ্ধাদের কারণে আপনি সরকার, তাদের চোখ কেড়ে নেবেন না, হাত-পা ভাঙবেন না, এক ফোটা রক্ত ঝরাবেন না। যদি ঝরান-এটি হবে চরম নিমক হারামি। যাদের রক্তঝরানো, সংগ্রাম-ত্যাগ বাংলাদেশকে এ পর্যায়ে নিয়েছে তাদের ভোলার চেষ্টা করবেন না। আমরা জাতিকে কথা দিচ্ছি, আপনাদের প্রয়োজনে আমাদের যেটুকু সামর্থ আছে, সবটুকু উজাড় করে দেব। এখানে কোনো সমঝোতা করবো না। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যে কোন সময় যে কোন প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে রাজি আছি। তবে জনগণের কোন অধিকারকে বিসর্জন দিয়ে এটা হবে না। কোন আধিপত্যবাদের কাছে মাথানত করবো না ইনশাআল্লাহ। এজন্য প্রয়োজনে ফাঁসির তক্তা বা আয়নাঘরে যাবো।
আইআরডি উপদেষ্টা ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল বুলবুল, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, মেজর (অব.) আখতারুজ্জাজামন প্রমুখ।

