একটানা বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরী আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় জমেছে হাঁটুসমান পানি । জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তাঘাটে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। সকালে বৃষ্টির পানির সাথে জোয়ারের পানি যোগ হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি মূলত অতি ভারী বৃষ্টিপাত। আর এ বৃষ্টিপাত শনিবার থেকে টানা হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ বৃষ্টিপাত শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। মৌসুমী বায়ু সক্রিয় রয়েছে। পাহাড় ধসের আশংকা রয়েছে বলে জানান তিনি। পূর্বের সর্তকাবস্থাই বলবত রয়েছে।’

এদিকে টানা বৃষ্টিতে নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, চান্দগাঁও, চকবাজারের তেলেপট্টি গলি, কাট্টলীর ঈশান মহাজন সড়ক, হালিশহরের কে ও এল ব্লকের সোনালি আবাসিক, বসুন্ধরা আবাসিক, রামপুর, আনন্দীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জে হাঁটুপানি রয়েছে। গাছ ভেঙে পড়েছে ঈশান মহাজন সড়কে। গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের সামনের রাস্তাটি ধসে পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজির হাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকার অনেক বাসা ও দোকানে পানি ঢুকে গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়।
নগরবাসীর অনেককে সকালে কাজে যাওয়ার সময় গাড়ি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, ‘নগরের কয়েকটি এলাকায় পানি জমে গেছে। বৃষ্টির পানির সাথে সকালে জোয়ারের পানি যুক্ত হয়েছে। এ কারণে এসব এলাকায় পানি জমেছে। নালা ও খাল পরিষ্কার থাকায় পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি ‘

নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ৮ থেকে ১০ বছর ধরে চারটি প্রকল্পের কাজ চলছে। গত মার্চ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা।
লাগাতার কয়েকদিনের বর্ষণে নগরীর পার্শবর্তী উপজেলা সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়িঢলে বহু রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে, বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে পানি।
বিশেষকরে সীতাকুণ্ডে অপরিকল্পিভাবে শিল্পায়নের কারণে জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের শিকার হতে হয় এলাকাবাসীকে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে যততত্র শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় প্রতি বর্ষামৌসুমে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় এখানকার বাড়বাকুণ্ড, বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা, ভাটিয়ারি এলাকার বিভিন্ন স্থানে।

