টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৯ জন এবং শহরে একজনসহ অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। পৃথক এসব ঘটনায় কমবেশি আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন । প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার ভোরে উখিয়ার জামতলী, কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে জামতলী ক্যাম্পে একই পরিবারের তিনজন, কুতুপালং ক্যাম্পে এক শিশু এবং বালুখালী ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ পাঁচজন নিহত হন। এসব ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় ভোরে পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজন মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আলী আকবর নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
স্থানীয় কাউন্সিলর জানান, বারবার সতর্ক করার পরও অনেক মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছেন, ফলে প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়েই চলেছে।
এদিকে, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন পাহাড়ধসপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

