দেশীয় শোবিজ ইন্ডাস্ট্রির শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতিসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। তবে চলচ্চিত্রের গানের শিল্পীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা যায়। সংগীতশিল্পীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো কক্ষ বা বসার কোনো জায়গা নেই। আর এ নিয়ে সরব হয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসি।
জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী বাংলাদেশ সরকারের কাছে চলচ্চিত্রশিল্পের সংগীত-সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের ‘চলচ্চিত্রশিল্পী’ হিসেবে স্বীকৃতি এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক ভেরিফায়েড পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এ দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ গায়িকা স্ট্যাটাসে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে বর্তমান চিত্র তুলে ধরে চলচ্চিত্রের গানের শিল্পীদের বিএফডিসির আওতাধীন ‘চলচ্চিত্রশিল্পী’ হিসেবে বিবেচনা এবং এ অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির দাবি জানিয়েছেন।
ন্যানসি লিখেছেন, ‘এই উপমহাদেশে, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে গান একটি শক্তিশালী উপকরণ। আমাদের চলচ্চিত্রের জন্মলগ্ন থেকেই গানের মাধ্যমে প্রায়ই চলচ্চিত্রের প্রচার, প্রসার ও ব্যবসায় সফলতা পেয়ে আসছে। আমরা কণ্ঠশিল্পী এবং চলচ্চিত্রের গান সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কলাকুশলী তথা গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক, আবহসংগীত পরিচালকরা তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারও পেয়ে থাকি।’
‘পরিতাপের বিষয়, বাংলাদেশ ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (BFDC) অধিনস্ত অন্যান্য সুযোগ সুবিধার আওতায় গানের কলাকুশলীদের বিবেচনা করা হয় না। শিল্পী সমিতি নামক যে সংগঠন রয়েছে, সেখানে আমাদের সদস্যপদ এবং ভোটাধিকারও নেই। আমরা যখন বিএফডিসিতে প্রবেশ করি, সেখানে পরিচালক সমিতি, প্রযোজক সমিতি এবং শিল্পী সমিতির আলাদা কক্ষ দেখতে পাই। চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন হয়ে আমাদের সংগীত সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট কক্ষ বা বসার ব্যবস্থা পর্যন্ত এত বড় আকারের একটি প্রতিষ্ঠানে দেখতে পাইনি।’
তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের বিশ্রাম, রিফ্রেশমেন্ট বা চর্চার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নির্ধারিত নেই। নারী শিল্পীদের অবস্থা নিশ্চয়ই সহজেই অনুমেয়। অথচ যেকোন উৎসব বা আয়োজনে আমাদের গানের শিল্পীদের ডাকা হলেও বিএফডিসির প্রাতিষ্ঠানিক মূল্যায়নে আমরা আজও চরমভাবে অবহেলিত। যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে নানা আলোচনায় এবং টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ বিষয়টি তুলে ধরেছি, কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা আগে কখনও প্রকাশ করা হয়নি।’
এ তারকা লিখেছেন, ‘আমরা চলচ্চিত্র মাধ্যমের একটি অত্যাবশ্যকীয় ভূমিকায় থাকার পরও নিজেদের একটি বসার ব্যবস্থা নেই, যা চলচ্চিত্র মাধ্যমের শিল্পী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের জন্যে বেদনাদায়ক। তাই বিএফডিসির সঙ্গে আমাদের দূরত্ব দূর করতে এবং প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার নিমিত্তে আপনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ও তত্ত্বাবধানে আপনার সংস্থায় একটি কার্যালয় তথা বসতে পারার সুনির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা করার বিনীত অনুরোধ করছি।’
সবশেষ এ গায়িকার লেখায় উঠে এসেছে বিএফডিসির প্রতি ভালোবাসা ও আবেগের কথা। ন্যানসি লিখেছেন, ‘আমাদের ভালোবাসার প্রতিষ্ঠান বিএপডিসি যেন এই সমুদয় বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সংগীত-সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের চলচ্চিত্রশিল্পের একজন শিল্পী পদমর্যাদাকে আমলে নিয়ে উক্তসব সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ব্যবস্থা গ্রহণে আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করে আমাদের সামনের দিনের পথচলাকে আরও অংশগ্রহণমূলক এবং মূল্যায়িত করার ব্যবস্থা করতে সচেষ্ট হন।’


