শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
'দ্য সাইলেন্স' এবং 'বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট' ফিল্ম এর পর্যালোচনা

 নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ এবং অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইটা কঠিন

নিষিদ্ধতা থেকেই পৃথিবীর জন্ম। এই নিষিদ্ধতার প্রতি আকর্ষণ এখন জেনিটেকিলি এনকোডেট হয়ে গেছে মানুষের চরিত্রে।

- Advertisement -

সৃষ্টির শুরু থেকেই নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এই কারণে মূলত দুনিয়ার সৃষ্টি। আর সেই বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘দ্য সাইলেন্স’ নামের একটি ওয়েব সিরিজে।ওয়েব সিরিজটি নির্মাণ করেছেন ভিকি জাহিদ।একটি নিষিদ্ধ ভালোবাসার গল্প অবলম্বনে ওয়েব সিরিজটি নির্মাণ করেছেন ভিকি।এতে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।

- Advertisement -shukee

হযরত আদম ও হাওয়া (আ.)-কে আল্লাহ একটি বিশেষ বৃক্ষের কাছে গমন করতে নিষেধ করেন।

তারপরের ইতিহাস সকলেরই জানা।

(সূরা আল-আ’রাফ এর ২০-২২ নং আয়াতে)

ইহুদি পুরাণে, নিষিদ্ধ ফল হলো ইডেন উদ্যানে জন্মানো সেই ফলের নাম, যা খেতে ঈশ্বর মানবজাতিকে নিষেধ করেছিলেন। বাইবেলের কাহিনীতে, আদম ও হাওয়া সৎ ও অসতের জ্ঞানবৃক্ষের ফল ভক্ষণ করেন এবং ফলস্বরূপ ইডেন উদ্যান থেকে বহিষ্কৃত হন।

প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস পাঠ করলেও দেখা যায়-

সেই স্টোন এজ থেকে মানুষ অজানাকে জানতে,ভয়ের মোকাবেলা করতে পছন্দ করতো।

তার প্রমাণ পাবেন ব্যবিলনিয়,মেসোপটেমিয়া ইত্যাদি সভ্যতার মানুষ ও জীবজন্তুর মধ্যে মারামারির আয়োজন করা হতো। বিপজ্জনক জেনেও এ জাতীয় আয়োজন করা হতো। তাই মানুষ জেনিটেকিলি এনকোডেট হয়ে গিয়েছিলযে, বিপজ্জনক কাজ করার মধ্যেই আনন্দ। এখন কিছুটা সভ্যতার ছোঁয়া লাগলেও জিনেরতো পরিবর্তন হয়নি। অনেকটা Beauty and the Beast ফিল্ম এর মত। অর্থাৎ সুন্দরীর সাথে দানবের প্রেম।দ্য বিউটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী রূপকথার গল্প।এই গল্প নিয়ে অ্যানিমেশন ফিল্মও তৈরি হয়েছে।

যদিও এই সিনেমাটি সম্পূর্ণ ফ্যান্টাসি, তবুও দর্শকদের মানব আত্মার সৌন্দর্য এবং কদর্যতার কথা মনে করিয়ে দেয় । নম্রতা, দয়ালুতা এবং যত্নশীলতা হল অভ্যন্তরীণ গুণাবলী -যা বেল এবং বিস্টের মধ্যে প্রেমের জন্ম দেয় এবং বিস্টকে তার মানব রূপ ফিরে পেতে এবং বেলকে বিয়ে করতে দেয়।

গল্পগুলো এজন্য বললাম যে,মূলত: নিষিদ্ধতা কোনো রাজনৈতিক সমাধান নয়।মানুষগুলোতো ঠিকই থাকবে।বরঞ্চ নিষিদ্ধের কারণে মানুষের আকর্ষণ বাড়বে,সহানুভূতি ও প্রেম জাগবে,মায়া জাগবে। একসময় প্রচন্ড ঢেউ এ বালির বাঁধ ভেঙ্গে ফেলবে।

আজ যাদের নিষিদ্ধ করা হবে,তারা কেউ হয়তো  দৃশ্যমান থাকবেনা। আমাদের বুঝা উচিত অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইটা কঠিন। চোরাগুপ্তা হামলা চালাবে,গেরিলাযুদ্ধ শুরু করবে – এটাইতো স্বাভাবিক।

পুলিশ সেনাবাহিনী আর কতোটা সামাল দিবে। তারাতো মানসিকভাবে অনেকটাই স্থির যে, কারও উপর গুলি চালাবেনা, কোনো মায়ের বুক খালি করবেনা।

তাছাড়া – এদেশের সেনাবাহিনী,পুলিশ,আমলা, শিক্ষাবিদ,বিদগ্ধ রাজনীতিবিদেরা ঠিকই  Revenge of nature বা প্রকৃতির প্রতিশোধ সম্পর্কে জানেন।

তারা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের অভ্যুদয় এর ইতিহাস জানেন। ৩০ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ত এবং চার লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে প্রাপ্ত স্বাধীনতাকে কেউ বিপন্ন হতে দেবেনা। সবাই এখন বুঝে  ৭১ এর পরাজিত শক্তিরাই ২৪ এর ম্যাটিকুলাস থিউরীর জনক।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশপ্রেমিক কোনো মানুষ ৭১ এর সাথে বেঈমানি করবেনা। আমি আমাকে দিয়েই ফিল করি। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নই। কিন্তু শৈশবে  মুক্তিযুদ্ধকে কিছুটা প্রত্যক্ষ করেছি,বাকীটা ইতিহাস পড়ে জেনেছি। আমি আমার বিবেকের তাড়নায় এসব লিখছি। কারণ আমি হিপোক্রেট নই, মোনাফেক নই,তাই আমার আদর্শিক জায়গা থেকে যেটাকে ন্যায়সঙ্গত মনে করি সেটাই লিখি। আমি আমার দেশপ্রেমের তাগিদ থেকেই এসব লিখি। এই সত্যগুলো লিখে না গেলে আমি মরেও শান্তি পাবোনা। আমি এ-ও জানি যে,আজ আমার কিছু হলে আমার পাশে একজন লোকও থাকবেনা। যেহেতু আমার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই,আমার পেছনে কোনো রাজনৈতিক শক্তিও নেই।। একজন সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে কেউ আমার জন্য এক কলম লিখবে সে বিশ্বাসও আমার নেই। আমি প্রত্যক্ষ করেছি – এখন আর কেউ কলম সৈনিক নই। সবাই এখন কলমজীবী। কলমের চামচামি করেই সংসার চালাবে,বাড়ী গাড়ী করবে এটাই অনেকের স্বপ্ন। ভীরুতা,স্বার্থপরতা, কাপুরুষতা এখন আমাদের মজ্জাগত হয়ে গেছে। দু-চার জন সাহসি লেখক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক দেখি তাদের আমি শ্রদ্ধা জানাই,স্যালুট দিই।যেমন উদাহরণ স্বরূপ বলতে পারি মাসুদ কামাল ভাই,জিল্লুর ভাই,পান্না ভাই।এরা কোনো দলের আনুগত্য করে বলে মনে হয়নি, করলেও আমার জানা নেই। কোনো দলের বা ব্যক্তিবিশেষের  সুবিধাও হয়তো নেয়নি।আমার মনে হচ্ছে বিবেকের তাড়নায় তারা সত্যটা বলার চেষ্টা করেন।

আমাদের দেশের বেশীরভাগ  বুদ্ধিজীবীদের মস্তিষ্কে এখন অনেকটা পচন ধরেছে। সত্য কথা বলার সাহস তাদের  কারও দেখিনা। একটা সময় দেখেছি জাতির ক্রান্তিলগ্নে বুদ্ধিজীবীরাই সোচ্চার ছিল। আমি জানিনা- বুদ্ধিজীবীদের ভয় কোথায়? তাদের কি কোনো অবৈধ সম্পদ বা কোনো অনৈতিক কর্ম আছে যে,সত্য কথা বলার সাহসও তারা হারিয়ে ফেলবে? কেন তারা ন্যায় ও সত্য কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন?

একজন আইনজীবীও পাইনা যে,সাহস করে সংবিধানের সত্য  কথাটি বলবেন।। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা কিছুটা সংবিধানের /আইনের ইন্টারপ্রিটেশন দিয়েছেন। বি এন পি নেতা ফজলুর রহমান এবং হারুনুর রশীদ ( চাঁপাই নবাবগঞ্জ-৩)  কে দেখেছি নেতাসুলভ আচরণ করতে, ব্যক্তিত্ব নিয়ে কথা বলতে।

আওয়ামী লীগেও আইভী আপা এবং কাদের সিদ্দিকীকে দেখেছি সাহস নিয়ে কথা বলতে।। এরা বিশ্বাস করে ন্যায়পরতা এবং জনগণই তাদের শক্তি। আপনাদের স্যালুট জানাই। আপনারা যে দলেরই হোন আপনারা রাষ্ট্রের সম্পদ।

আমার বিশ্বাস – যেই বাংলাদেশে আজ সেনাবাহিনী,পুলিশ,প্রশাসনের  আমলারা কাজ করছেন তারা  নিশ্চই জানেন এই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস। নিশ্চই তারা দেশপ্রেমিক। কেউ তারা জ্ঞানপাপী নয়।শু ধু এইটুকুই বলবো – আপনারা ন্যায়ের পক্ষে থাকুন,  সত্যের পক্ষে থাকুন, বাংলাদেশের পক্ষে থাকুন।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা না খেয়ে, জীবন বাজি রেখে এই দেশটা আমাদের উপহার দিয়েছিল। এই দেশকে আপনারা বাঁচান প্লিজ। আজ বাংলাদেশের  হাজার হাজার দায়িত্বরত পুলিশকে তারা যতোটা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে,পুড়িয়ে মেরেছে – এই ক্ষত আমি আমৃত্যু ভুলতে পারবোনা।সেই বিভৎস দৃশ্য আমাকে প্রতিনয়ত কাঁদায়। যারা ছাত্রদের মেরেছে তাদেরও বিচার আমি চাই, এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত হোক,৭.৬২ এর রহস্য উদঘাটন হোক – সেটাও আমরা জানতে চাই।মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন ৭.৬২ এর ব্যবহার প্রসঙ্গে বলার পরদিনই যখন তাঁর মন্ত্রণালয় চেইঞ্জ হয় তখন থেকেই আমাদের সন্দেহ ঘনিভূত হয়।কিছু বিপথগামী বহিষ্কৃত সেনা সদস্যকেও দেখেছি অস্ত্র উঁচিয়ে কথা বলতে। তাই আইন ও তদন্ত যেনো সত্যের পক্ষে থাকে সেটাও আমাদের প্রত্যাশা।

একজন মুসলমান হিসেবে দাড়ি টুপিওয়ালা মানুষদের প্রতি আমি খুব দুর্বল ছিলাম। অনেক এ্যানালাইসিস করে দেখেছি তন্মেধ্যে ( সকল আলেম ওলেমা নয়) ৭১ এর পরাজিত শক্তিরা  মোনাফেক। ওরা পিচাশ প্রকৃতির। এমন কোনো হেন কাজ নেই তারা করতে পারে। এতোদিন ঘাপটি মেরেই বসেছিল। এখন নতুন করে তাদের মুখোস উন্মোচন হচ্ছে।

এদেশের সেনাবাহিনী,পুলিশ,আমলা, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ , শিল্পী, সাহিত্যিক,সাংবাদিক তথা ১৮ কোটি মানুষের প্রতি আমার অনুরোধ

৭১ এর পরাজিত শক্তির কাছে যেনো বাংলাদেশ হেরে না যায়। তাহলে আমাদের শিক্ষা,আমাদের সার্টিফিকেট,আমাদের অর্জিত জ্ঞানের কোনো দামই থাকবেনা।বাং লাদেশের ক্রান্তিলগ্নে বরাবরই এদেশের আমলারা, সেনাবাহিনী দেশের হাল ধরেছিল। আজও আপনাদের দিকে বাংলাদেশের মানুষ তাকিয়ে আছে।

একবার ভাবুন যে বাংলাদেশে আপনি একজন সেনা কর্মকর্তা,পুলিশ কর্মকর্তা, আমলা – সেই বাংলাদেশের  অভ্যুদয়ের ইতিহাস কল্পনা করেন,

বাংলাদেশের মহান স্থপতির কথা ভাবুল তাহলেই দেখবেন বুকের  ভেতর দেশপ্রেম এর শিহরণ জাগবে।

স্বর্গীয় এক সাহস আপনার বিবেককে নাড়িয়ে দেবে।

তখন বাংলাদেশ আবার ৭১ এর পরাজিত শক্তির কবল থেকে মুক্ত হবে। আর আপনারাই হবেন জীবন্ত কিংবদন্তী।

লেখক পরিচিতিঃ কথাসাহিত্যক ও সংস্কৃতি কর্মী ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও