চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চিকিৎসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে। অস্ত্রোপচার, ওষুধের চিকিৎসা ও রেডিয়েশন—এই সমন্বিত চিকিৎসার কারণে এখন অনেক রোগী সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারছেন। তাই ক্যান্সার মানেই জীবন শেষ—এই ধারণা ঠিক নয়।”
ক্যান্সার জয়ী অদম্য যোদ্ধাদের সাহস ও জীবনের জয়গান উদযাপন করতে চট্টগ্রামে আয়োজন করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী মিলনমেলা— “বৈশাখী মিলনমেলা ২০২৬”। “লড়াই শেষে জয়ের সাজ, অদম্য যোদ্ধাদের উদ্যোগ আজ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে হাসপাতালের চার দেয়ালের বাইরে জীবনের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (১মে) সকালে চট্টগ্রামের জিইসি কনভেনশন হলে এই মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন,চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর মানসিক শক্তি, পরিবারের সহযোগিতা এবং সঠিক পুষ্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মেলার মতো আয়োজন ক্যান্সার জয়ীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তাদের সমাজে স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসতে সাহায্য করে।”
মেয়র বলেন, আমাদের দেশে অনেক সময় রোগ দেরিতে ধরা পড়ে, যা চিকিৎসাকে কঠিন করে তোলে। তাই শুরুতেই পরীক্ষা করানো, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ক্যান্সার থেকে সুস্থ হওয়ার পর রোগীদের ভালোভাবে বাঁচার সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সহমর্মিতা প্রয়োজন। আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি ও সঠিক চিকিৎসা থাকলে ক্যান্সার জয় করা সম্ভব। এই অদম্য মানুষগুলো আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা।
খ্যাতনামা অনকোলজিস্ট ডা. ভাস্কর চক্রবর্তী-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই মেলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর উদ্যোক্তারা। মেলার প্রতিটি স্টল পরিচালনা করেন ক্যান্সার জয়ী সারভাইভার এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন সাহসী যোদ্ধারা। তাদের হাতে তৈরি হস্তশিল্প, বৈশাখী পোশাক এবং ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুলির সমাহারে সাজানো হয় পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল সারভাইভারদের স্টল যেখানে ছিল হস্তশিল্প, পোশাক ও দেশীয় খাবারের সমাহার। স্মৃতিচারণ ও সাহসের গল্প যেখানে ক্যান্সার জয়ীদের অনুপ্রেরণামূলক অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া ছিল ‘‘বিজয়ের বেশে” শিরোনামে বিশেষ ফ্যাশন শো, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মেডিটেশন ও আড্ডা।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম. এ. মালেক, দৈনিক আজাদী পত্রিকার পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহেদ মালেক, প্রবর্তক সংঘ বাংলাদেশের সভাপতি বাবু ইন্দু নন্দন দত্ত, বিশিষ্ট আইনজীবী
এডভোকেট আবু মো. হাসেম, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহফুজুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর রীতা দত্ত।
আয়োজক ডা. ভাস্কর চক্রবর্তী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ক্যান্সার মানেই জীবনের শেষ নয়; বরং এটি এক নতুন সাহসের শুরু। এই মেলার মাধ্যমে আমরা সমাজের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই যে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব। আপনাদের উপস্থিতি এই সাহসী মানুষদের আগামীর পথচলায় নতুন প্রেরণা যোগাবে।”

