মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

[the_ad id='15178']

 বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

“১৮৮৬ সালে শ্রমিকরা জীবন দিয়ে ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করেছিল। কিন্তু মে দিবসের ১৪০ বছর পরও শ্রমিকরা মালিকী ব্যবস্থার জাঁতাকলে পড়ে এসব অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে । ফলে আজ মহান মে দিবসের চেতনায় কাজ,ন্যায্য মজুরি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় আপোষহীন ধারায় শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং তার ধারাবাহিকতায় শোষণমূলক পুঁজিবাদী ব্যবস্থা উচ্ছেদ করার লড়াই জোরদার করতে হবে।”  মহান মে দিবসে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন।

- Advertisement -

মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে আজ শুক্রবার ( ১মে) বিকালে চট্টগ্রাম ইপিজেড বেশপিং মার্কেট চত্বরে শ্রমিক সমাবেশ ও লাল পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশের শুরুতে গণসঙ্গীত পরিবেশন করে শহীদ রুমি স্কোয়াডের শিল্পীরা। বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন চট্টগ্রাম জেলার আহবায়ক শফি উদ্দিন কবির আবিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহেদুন্নবী কনক,গৃহকর্মী অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি আসমা আক্তার। সমাবেশ পরিচালনা করেন সংগঠনের জেলা সদস্য মো. ফরহাদ।

- Advertisement -shukee

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন,“ দীর্ঘদিন যাবত শ্রমিক সংগঠনগুলো গণ

তান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়নের যে দাবি জানিয়ে আসছে সেটা বাংলাদেশে আজও উপেক্ষিত । শ্রম আইনের বেশিরভাগ ধারাই মালিক স্বার্থের পক্ষে। শ্রম আইনের যেসব ধারা শ্রমিকদের পক্ষে আছে, মালিকরা সেগুলোও মানতে চায় না । গার্মেন্টসসহ বেশিরভাগ সেক্টরে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি,ওভারটাইমের টাকা,ঝুঁকি ভাতা,হাজিরা বোনাস,উৎসব ভাতা,গ্র্যাচুইটি,পেনসন এসব অধিকার থেকেও শ্রমিকরা বঞ্চিত হয়। আছে লে-অফ,অটোমেশনের নামে ছাঁটাই,বেতন কর্তন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও  শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশে তার প্রতিফলন ঘটেনি,মালিকদের স্বার্থে শ্রমিক পক্ষের অনেক সুপারিশ বাদ দেওয়া হয়েছে বা সংকোচন করা হয়েছে। বর্তমান সংসদে উক্ত শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশের বিল পাশ করা হয়েছে। সরকার বা বিরোধীদল কেউ সংসদে এ বিষয়ে  শ্রমউক্ত অধ্যাদেশে   সব শ্রমজীবী মানুষের শ্রম অধিকারের আইনি স্বীকৃতি, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, সবক্ষেত্রে ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি, অস্থায়ী বা আউট সোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিয়োগ বন্ধ, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারকে আইএলও কনভেনশন ১২১ এর মানদণ্ডে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ শ্রমিকদের অনেকগুলো গণতান্ত্রিক অধিকার ও সুরক্ষার দাবি উপেক্ষিত হয়েছে। ফলে গণতান্ত্রিক শ্রম আইনের লড়াই আজ আরো জোরদার করতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি লাল পতাকা মিছিল ইপিজেড থেকে মাইলের মাথা এসে শেষ হয়।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও