চসিক মেয়র, ডা. শাহাদাত হোসেনও এমএএফ আয়োজনে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে পর্যটন পরিষেবার উন্নয়ন মতবিনিময় ও অংশিজন সভা অনুষ্ঠিত
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম মনোরম ও জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। চট্টগ্রাম নগরীর কেন্দ্রস্থল থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত হওয়ায় এটি সহজেই পৌঁছানো যায় এবং দিন দিন পর্যটকদের কাছে এর আকর্ষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতকে আধুনিক ও বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া দৃষ্টিনন্দন সাজসজ্জা পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

আজ সোমবার (৩০ মার্চ) চট্টগ্রাম নগরীর কপার চিমনী রেস্টুরেন্টে মাল্টিপার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ)-এর আয়োজনে এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় “পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে পর্যটন পরিষেবার উন্নয়ন” শীর্ষক মতবিনিময় ও অংশিজন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ড. শাহাদাত হোসেন।
সভাপতিত্ব করেন এমএএফ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল চট্টগ্রাম রিজিয়নের কনসালটেন্ট সদরুল আমিন।
সভায় পুলিশ সুপার, টুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রিজিওন উত্তম প্রসাদ পাঠক (পিপিএম), ডিসি ট্রাফিক (পোর্ট) কবির আহমেদ, সহকারী কমিশনার (পর্যটন) সুব্রত হালদার, সিডিএ’র নগর পরিকল্পনাবিদ জহির আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ঊর্মি সরকারসহ প্রশাসন, সাবেক কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং এমএএফ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এমএএফ-এর সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বক্তারা উল্লেখ করেন, সরকার পতেঙ্গা সৈকত এলাকাকে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের সহযোগিতায় বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে সিঁড়ি, শৌচাগার, বাগান, ওয়াকওয়ে ও সড়ক বাতি স্থাপন করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও অবৈধ স্থাপনার কারণে অনেক সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সভায় বক্তারা অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যানজট নিরসন, সমন্বিত পার্কিং সুবিধা, পর্যাপ্ত আধুনিক টয়লেট ও বিশ্রামাগার স্থাপন, নিরাপত্তা জোরদার, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ এবং খাদ্য ও আবাসন সুবিধা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিতির বক্তব্যে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (সিসিসি)-এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সরকার ঘোষিত বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত উন্নয়নে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, উন্নত নিরাপত্তা এবং আধুনিক পর্যটন সুবিধার মাধ্যমে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে আরও জনবান্ধব ও পর্যটকদের জন্য সুবিধাজনক করে তুলতে সেখানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি এলাকাটি পর্যবেক্ষণ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তার জন্য আনসার সদস্য ও বেসরকারি নিয়োগের প্রস্তাব দেন। ড. শাহাদাত হোসেন আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটদের হস্তক্ষেপে সৈকত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণের ওপর জোর দেন। তিনি পরামর্শ দেন যে, মনোরম পরিবেশ বজায় রেখে পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে দোকানপাট স্থাপন করা উচিত। জেলা প্রশাসন, সিডিএ, পর্যটন কর্পোরেশন, টুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য সেবা সংস্থার সমন্বয়ে বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি কারযকর করার উদ্দ্যোগ নেয়া হবে। যৌথ ব্যাংক হিসেবের মাধ্যমে বীচের যাবতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও পরিচালন ব্যয় বাস্তবায়ন করা হবে। জোনভিত্তিক পরিকল্পিত নকশা প্রনয়ন করে, করতে হবে যাতে দর্শনার্থীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি না হয় বা প্রাকৃতিক দৃশ্যের ক্ষতি না হয়। সৈকতের কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), ট্যুরিস্ট পুলিশ, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান মেয়র। সেই সাথে সকল সেবা সংস্থাকে এক ছাতার নীচে নিয়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিতে নগর সরকার বাস্তবায়নের দাবি জানান। সভার বক্তাদের দাবির প্রেক্ষিতে সৈকতের পে পারকিং ব্যাবস্থা বাতিলের দাবি সমর্থন করে, জেলা প্রশাসনকে পুনরায় ইজারা বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা যাবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক নেতারা।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, জেলা প্রশাসন, সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, পর্যটন কর্পোরেশন, টুরিস্ট পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে একটি কার্যকর “বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি” গঠন করা হবে। এর মাধ্যমে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পরিচালনা ব্যয় যৌথভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ক্যাব সাধারণ সম্পাদক ইকবাল বাহার সাবেরি, প্রাণ প্রকৃতি সম্পাদক শারুদ নিজাম, পূর্বদেশ এর নির্বাহী সম্পাদক মোশারফ রাসেল, এনটিভির এনাম হায়দার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর অনুপম শীল ও বিটিভির আমজাদ হোসেন, এমএএফ সদস্য মাহমুদুর রহমান মান্না, ফারহানা আক্তার জসিম, মোঃ সাইফুল, পারভিন আক্তার রোজা, এডভোকেট বিলকিস আরা মিতু, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ওসমান গনি, নাসরিন আক্তার। পতেঙ্গা থানা জমায়াত নেতা হামিদ উল্লাহ, ব্যবসায়ি নেতা আইউব আলী, মোরশেল আলম, আবু বক্কর সিদ্দিক, আব্দুল হামিদ।
সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে, যা দেশীয় ও বিদেশি পর্যটকের আগমন বৃদ্ধি করে স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় পর্যটন শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

