মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে সবার অংশগ্রহণের আহ্বান মেয়রের

চসিকের স্বাধীনতা বইমেলা  শুরু ৩১ মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মহান স্বাধীনতার মাসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে শুরু হতে যাচ্ছে ১৯ দিনব্যাপী স্বাধীনতার বইমেলা-২০২৬।

- Advertisement -

আগামীকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেল ৪টায় নগরীর কাজীর দেউরী জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে এ মেলার উদ্বোধন হবে, যা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।

- Advertisement -shukee

সোমবার মেলা প্রাঙ্গণ পরিদর্শন শেষে বই মেলা মঞ্চে এক সংবাদ সন্মেলনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বীর চট্টগ্রামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে ধারণ করে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এ বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।

মেয়র জানান, মেলায় মোট ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে ১২৯টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি ডাবল স্টল এবং ৯৪টি সিঙ্গেল স্টল রয়েছে। চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকার স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১২টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিচ্ছে।

স্বাধীনতার বইমেলা-২০২৬ উপলক্ষ্যে সোমবার মেলাপ্রাঙ্গণ পরিদর্শন করছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন

তিনি বলেন, প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এবারের মেলায় লেখক পাঠকের ব্যাপক সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মেলায় থাকছে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, লেখক সমাবেশ, শিশু ও যুব উৎসব, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান, কবিতা ও ছড়া উৎসব, আলোচনা সভা, লোকজ ও নৃগোষ্ঠী সংস্কৃতি বিষয়ক আয়োজনসহ নানা অনুষ্ঠান। প্রতিদিনের আলোচনা সভায় দেশের বিশিষ্ট লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন।

মেয়র বলেন, বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই মোবাইল ও মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে- যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। বইমেলা তরুণ প্রজন্মকে সৃজনশীল পথে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মেয়র জানান, পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি নেটওয়ার্কের আওতায় থাকবে এবং পুলিশের পাশাপাশি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাও দায়িত্ব পালন করবে। দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রাখা হয়েছে।

নির্মাণাধীন বইমেলাপ্রাঙ্গণ

তিনি বলেন, এই বইমেলা শুধু একটি আয়োজন নয়, এটি চট্টগ্রামের সকল মানুষের। লেখক, পাঠক ও সংস্কৃতিমনা মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হবে এ আয়োজন।

মেয়র গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বইমেলার প্রচার প্রসারে সহযোগিতা কামনা করেন এবং সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে পরিবারসহ মেলায় অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, মেয়র মহোদয়ের পিএস অভিষেক দাস, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রনয় চাকমা, রাজস্ব কর্মকর্তা সাব্বির রহমান সানি, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জোবাইদা আকতার, শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন, জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ, সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মামুন, চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি শাহাবুদ্দীন হাসান বাবু সহ কর্মকর্তাবৃন্দ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও