Tuesday, 29 September 2026

[the_ad id='15178']

বিশ্ব হার্ট দিবস

চট্টগ্রামে বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি, প্রয়োজন সচেতন জীবনযাপন

কাজী হাসানুজ্জামান সান্টু

হৃদরোগ এখন শুধু বয়স্কদের সমস্যা নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে এর ঝুঁকি। বিশ্বব্যাপী হৃদরোগ ও স্ট্রোক মানুষের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশেও অসংক্রামক রোগের মধ্যে হৃদরোগ একটি বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের হৃদরোগ পরিস্থিতি, ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

- Advertisement -

বাংলাদেশে হৃদরোগ: মৃত্যুর বড় কারণ

- Advertisement -shukee

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হৃদরোগ ও অন্যান্য কার্ডিওভাসকুলার রোগের কারণে হয়ে থাকে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য প্রতিবেদনে দেখা যায়, অসংক্রামক রোগের মধ্যে হৃদরোগ দেশের অন্যতম প্রধান মৃত্যুর কারণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের বড় অংশই জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, ধূমপান, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হৃদরোগের প্রধান ঝুঁকি।

চট্টগ্রামের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা: বাড়ছে ঝুঁকি

চট্টগ্রামের মানুষের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতিতে তেল-মসলা, লবণ, গরু ও খাসির মাংসসহ কিছু উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি। চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত অতিরিক্ত চর্বি ও লবণযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চট্টগ্রামের মতো বন্দরনগরীতে দ্রুত নগরায়ন, কর্মব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতিও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

তরুণদের মধ্যেও বাড়ছে হৃদরোগের আশঙ্কা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম বয়সীদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান, মানসিক চাপ, ফাস্টফুড গ্রহণ এবং ব্যায়ামের অভ্যাস না থাকা তরুণদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপে ভুগলেও তা জানতে পারেন না। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করায় অনেক ক্ষেত্রে হৃদরোগ শনাক্ত হয় দেরিতে।

চট্টগ্রামে হৃদরোগ চিকিৎসায় উন্নতি:

গত কয়েক বছরে চট্টগ্রামে হৃদরোগ চিকিৎসার অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। আধুনিক ক্যাথল্যাব, এনজিওপ্লাস্টি, স্টেন্ট স্থাপন এবং হৃদরোগের বিভিন্ন উন্নত চিকিৎসা এখন চট্টগ্রামেই পাওয়া যাচ্ছে।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও হৃদরোগ প্রতিষ্ঠান নিয়মিত হৃদরোগ পরীক্ষা, সচেতনতা কার্যক্রম ও স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজন করছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ছে।

প্রধান ঝুঁকির কারণগুলো

হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় এমন প্রধান কারণগুলো হলো—

উচ্চ রক্তচাপ

উচ্চ কোলেস্টেরল

ডায়াবেটিস

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার

অতিরিক্ত লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ

শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর পথ

চিকিৎসকদের মতে, হৃদরোগ প্রতিরোধে কিছু সাধারণ অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—

১. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন:

রান্নায় তেল ও লবণের পরিমাণ কমানো, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত করা এবং শাকসবজি, ফলমূল ও স্বাস্থ্যকর খাবার বাড়ানো।

২. নিয়মিত শরীরচর্চা:

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়ক।

৩. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা:

বিশেষ করে ৩০ বছরের পর থেকে নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

৪. তামাক বর্জন:

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য হৃদরোগের অন্যতম বড় ঝুঁকি—এটি সম্পূর্ণ পরিহার করা জরুরি।

সচেতনতার বিকল্প নেই

বিশ্ব হার্ট দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়ার বিষয়ে সচেতন করা। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত চিকিৎসা পরামর্শ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হৃদরোগের চিকিৎসার পাশাপাশি সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হলো—রোগ হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া।

লেখক- সাবেক সভাপতি, রোটারি ক্লাব অব চিটাগং হেরিটেজ

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও