ঘর-আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার নগরীর নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘর-আঙিনা ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নগরবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, নির্মাণাধীন ভবন ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। তাই মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হলে শুধু সিটি কর্পোরেশনের ওপর নির্ভর করলে হবে না, প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ ছিটানো এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় মশার ঘনত্ব বেশি, সেসব এলাকায় বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে।

মেয়র আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। চসিকের পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন, কিন্তু নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এই কার্যক্রম পুরোপুরি সফল করা সম্ভব নয়। সবাইকে নিজ নিজ ঘর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের পরিবেশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে।
তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘর-আঙিনা পরিষ্কার রাখুন, জমে থাকা পানি অপসারণ করুন এবং ডেঙ্গু থেকে নিজে বাঁচুন, অন্যকেও বাঁচান। সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে হবে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব এলাকায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তবে শুধু সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

