অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন পাঁচ দেশের ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ জন শিক্ষক। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির যন্ত্রকৌশল বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মাসুদ খান, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ওকলাহোমার অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালক মো. রবিউল হোসেন, নরওয়ের এগডার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৌমেন রুদ্র, রবার্ট গর্ডন বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক মাহমিদ হোসাইন এবং অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হুদা রয়েছেন।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মারডাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিএম শফিউল্লাহ, ইউনিভার্সিটি অব সানশাইন কোস্টের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক আমান ও, ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও এনআরটি-লিড প্রোগ্রামের পরিচালক প্রশান্ত দত্ত, ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের অধ্যাপক মোস্তাফিজ রহমান এবং ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের সিনিয়র প্রভাষক রুপম দাস বিবৃতি দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুস সালাম ও ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নন্দিতা বিশ্বাসও বিবৃতিতে সমর্থন জানিয়েছেন।
তাঁদের মধ্যে জিএম শফিউল্লাহ, সৌমেন রুদ্র, রুপম
দাস ও মো. আব্দুস সালাম চুয়েটের এলামনাই। তাঁরা বিদেশে শিক্ষকতা করছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষায় পাঠানোর জন্য গত ২০-২২ বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছেন অধ্যাপক সায়েম। সেই প্রক্রিয়ায়ই জিএম শফিউল্লাহ, মো. রবিউল হোসেন, প্রশান্ত দত্ত সহ বাকিদের সাথে অধ্যাপক সায়েমের পরিচয়। সেই কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁরা অধ্যাপক সায়েমকে সমর্থন দিয়েছেন বলে জানা যায়।
অধ্যাপক সায়েমের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ওকলাহোমার অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালক মো. রবিউল হোসেন বলেন, “অধ্যাপক সায়েম এবং আমি প্রায়ই চুয়েটের প্রাতিষ্ঠানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছি। কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান ও মানবসম্পদের দিক থেকে চুয়েটের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। অধ্যাপক সায়েমের মধ্যে এমন কৌশলগত দূরদৃষ্টি ও প্রশাসনিক বাস্তবায়নের দক্ষতা রয়েছে, যা চুয়েটকে জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিগত হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম।”
তিনি আরও বলেন, “আমি পূর্ণ আগ্রহ ও উৎসাহের সঙ্গে তাঁর প্রার্থিতাকে সমর্থন করছি এবং চুয়েটের উন্নয়ন ও বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় তাঁর মেধা ও দূরদর্শিতার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের অনুরোধ করছি।”
ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও এনআরটি-লিড প্রোগ্রামের পরিচালক প্রশান্ত দত্ত বলেন, “বাংলাদেশে আমি যত অ্যাকাডেমিক নেতা ও সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করেছি, তাঁদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের প্রতি সুদৃঢ় অনুরাগের দিক থেকে অধ্যাপক সায়েম বিশেষভাবে ব্যতিক্রম। নিজের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি সবসময় শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখেন। এই পদের জন্য তিনি অত্যন্ত যোগ্য একজন ব্যক্তি।”
অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সানশাইন কোস্টের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক আমান ও বলেন, “অধ্যাপক সায়েমকে তত্ত্বাবধান এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক যোগাযোগ ও একাডেমিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাঁর একাডেমিক অগ্রগতি, গবেষণার সক্ষমতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও উচ্চশিক্ষার প্রতি নিষ্ঠা খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ আমার হয়েছে।”
বিবৃতিদাতারা বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে চুয়েটের উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

