Saturday, 26 September 2026

[the_ad id='15178']

চট্টগ্রামের উন্নয়নে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে: সিটি মেয়র

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও দেশের অগ্রযাত্রায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -

তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করলেই হবে না, নিজের শহর, সমাজ ও দেশের জন্য কী করা যায়, সেই চিন্তাও তোমাদের মধ্যে থাকতে হবে। তোমরাই ভবিষ্যতের চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষক, গবেষক, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রের নেতৃত্বদানকারী মানুষ। তোমাদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।

- Advertisement -shukee

তিনি শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শাহ আলম বীর উত্তম মিলনায়তনে গাজী কে ডি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এসএসসিতে ভালো ফলাফলকারী বারশত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, আজ এতগুলো মেধাবী শিক্ষার্থীর সামনে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। তোমাদের বয়সে আমিও স্বপ্ন দেখতাম, কীভাবে নিজেকে গড়ে তুলে মানুষের জন্য কাজ করা যায়। ১৯৯১ সালে আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করি। তখন সারা দেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ছিল মাত্র ৮টি এবং আসনও ছিল ১২০০ মাত্র। তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে মেডিকেলে ভর্তি হতে হয়েছে। তাই তোমাদেরও জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, চিকিৎসা পেশায় মানুষের সেবা করার পাশাপাশি আমি উপলব্ধি করেছি, বৃহত্তর পরিসরে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও। এ কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছি। আজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে আমার লক্ষ্য হচ্ছে চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, আমাদের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হলো মেধাবী তরুণদের দেশের বাইরে চলে যাওয়া। সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যাতে দেশের মেধাবী তরুণরা দেশেই নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ পায়। তোমাদের জ্ঞান ও দক্ষতা যেন দেশের মানুষের কাজে লাগে, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে হবে এবং বাসাবাড়িতে জমে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে। তোমরা নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও প্রতিবেশীদেরও সচেতন করবে। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রামের উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মেয়র বলেন, আমার স্বপ্ন হচ্ছে চট্টগ্রামকে একটি গ্রিন, হেলদি, সেফ ও স্মার্ট সিটিতে পরিণত করা। তরুণ প্রজন্মের জন্য নগরীতে উন্মুক্ত স্থান, পার্ক, খেলার মাঠ ও বিনোদনের সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এয়ারপোর্ট রোডে ২ দশমিক ২ কিলোমিটার সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ করা হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে আরও উন্মুক্ত স্থান ও পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১১টি খেলার মাঠের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য মাঠও উন্নয়ন করা হবে। আগ্রাবাদে শিশুদের জন্য পার্ক এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আরও সবুজ ও উন্মুক্ত স্থান তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এসব স্থান হবে শিশু কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলা, হাঁটাচলা, বিনোদন ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র।

শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ওয়াই ফাই সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম কলেজ, সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, ওমরগণি এমইএস কলেজ ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে মেয়র শিক্ষা বৃত্তি চালু করেছে। আমি চাই তোমাদের মতো মেধাবী ছেলেমেয়েরা আরও এগিয়ে যাক, নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক এবং একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও বাংলাদেশকে আলোকিত করুক।

তিনি বলেন, তোমরাই এই শহরের সম্পদ, তোমরাই দেশের সম্পদ। তোমাদের মেধা, জ্ঞান, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ ও স্মার্ট নগরীতে এবং বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা সম্ভব। তোমাদের প্রতি আমার আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভকামনা রইল।

গাজী কে ডি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ সিরাজ উল্লাহর সভাপতিত্বে ও ইসমিতার পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম ৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, সিডিএ’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. কামরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ সভাপতি মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, দৈনিক দেশ বর্তমানের সম্পাদক জমির উদ্দিন, এমসিইও’র ফাউন্ডার আইমান সাদিক, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. আনিসুল হোসেন বাবুল, কেন্দ্রীয় ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ডা. এস এম সরোয়ার আলম, ব্যবসায়ী সাকিব কাদের চৌধুরী, ডা. সামিউল প্রমুখ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও