বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গোলাগুলি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে ও তীব্র ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথকভাবে কর্মসূচি আয়োজন করায় পুলিশ দুটি পক্ষকে আলাদা সময় বেধে দেয়। কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজনকে দুপুর ২টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার কথা বলা হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে মুনস্টার কনভেনশন সেন্টার চত্বরে অবস্থান নেয় আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা এবং উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব মোরছালীনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা। এ সময় সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মুনস্টার ক্লাব থেকে দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন।

দুপুর ১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। পাশাপাশি ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়।

বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় তিনটি মিনিবাস ভাংচুর করা হয়।
এ সময় ট্রাঙ্ক রোড থেকে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে সীতাকুণ্ড সদরের বিভিন্ন সড়কে। সীতাকুণ্ড বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সন্নিকক্ষে তুমুল সংঘর্ষ গোলোগুলির কারণে সমস্ত দোকানপাঠ বন্ধ হয়ে , বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। ককটেল বিষ্ফোরণ ও প্রচণ্ড গোলাগেলির কারণে কোমলমতি হাজার হাজার শিক্ষার্থী,শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে এক শ্বসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আইনশৃংখলাবাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। উভয়গ্রুপের নেতাকর্মীদের প্রায় ৪/৫ঘণ্টাব্যাপি ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও মারামারিতে সদরের ৭/৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আগেই থেকে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনার ঘটার সম্ভাবনা বিভিন্ন পত্রিকায় ও ফেসবুকে প্রচার হলেও প্রশাসন সভাসমাবেশ বন্ধে কঠোরভাবে উদ্যোগ নিলে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এর পোস্টার- ব্যানার ছিঁড়ে ও ভাংচুর করে রাস্তায় ফেলে দেয় আসলাম চৌধুরীর সমর্থরা । প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিসম্বলিত সমস্ত পোস্টার- ব্যানার ছিঁড়ে ফেলায় সালা উদ্দিন গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
কাজী সালাউদ্দিনের সমর্থকেরা বাঁশবাড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি শত শত নেতাকর্কমী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে করেন-যা দুপুর ২টা থেকে যান চলাচলেই চরম বিঘ্ন ঘটায়। একই সময়ে আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা সীতাকুণ্ড পৌরসভা, ভাটিয়ারী, কুমিরা, সোনাইছড়ি ও সলিমপুর এলাকায় মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নেন।
দুই পক্ষের এই সহিংসতা ও মুখোমুখি অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত সীতাকুণ্ডে বিএনপির নির্ধারিত ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী লায়ন আসলাম চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

