সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্যে অস্পষ্টতা থাকায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ বশির উদ্দিন কনক, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ শিমুল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক রঞ্জন বণিক ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আলম আকতার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অসীম চক্রবর্তী এক যুক্ত বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, দেশের সিংহভাগ শিক্ষার্থীকে পাঠদানকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এই পে-স্কেলের আওতায় আনার বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় আমরা উদ্বিগ্ন। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সমান যোগ্যতা ও একই দায়িত্ব পালন করে আসলেও অজ্ঞাত কারণে সমমর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। সদ্যঘোষিত নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়েও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং শিক্ষকসমাজের জন্য অমর্যাদাকর।

শিক্ষক নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, প্রস্তাবিত ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের আগেই দেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকে এই পে-স্কেলের আওতায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও নতুন পে-স্কেল ও বেতন চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই কার্যকর করার দাবি জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে এমপিও নীতিমালা ২০২৫ এর ৪.২২-এর বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন স্কেলের সংজ্ঞায় বলা আছে -বেতন স্কেল বলতে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ ও সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে ঘোষিত জাতীয় বেতন স্কেলকে বুঝাবে। নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নতুন পে-স্কেলে যুক্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
বিবৃতিতে আরো উল্লেখ্য যে, ১৯৯৭ সালের ৪র্থ জাতীয় বেতন স্কেল থেকে জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকরের তারিখ থেকেই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এবারও তাদের পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাই স্বাভাবিক। তাঁরা এই বিষয়ে সরকারের আন্তরিকতা কামনা করেন।

