রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

[the_ad id='15178']

জমি হস্তান্তরের আগে জলিল টেক্সটাইলের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জলিল টেক্সটাইল মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির (বিওএফ) সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদনের খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মিলটির শ্রমিকরা।

- Advertisement -

তারা বলেছেন, ১ হাজার ৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের বকেয়া আইনানুগ পাওনা পরিশোধ না করে মিলের জমি বা অন্য কোনো সম্পদ হস্তান্তর করা হলে তা শ্রমিকদের প্রতি চরম অবিচার হবে।

- Advertisement -shukee

রবিবার (৫ জুলাই) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান জলিল টেক্সটাইল মিলস ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মো. মছিউদদৌলা, সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাশেম আজাদ এবং সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সিদ্দিক।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, সম্প্রতি অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া আইনানুগ পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তের উল্লেখ না থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

তারা জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিরপেক্ষ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান শফিক বসাক অ্যান্ড কোং নিরীক্ষা শেষে ৩০ জুন ২০১২ পর্যন্ত ১,০৭৩ জন শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার মোট নিট পাওনা ২০ কোটি ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার ৮০৮ টাকা নির্ধারণ করে। পরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিও দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে একই পরিমাণ পাওনা বহাল রেখে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এছাড়া শ্রম অধিদপ্তরের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকদের লে-অফ সুবিধা দেয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিল পুনরায় অধিগ্রহণের বৈধতা নিয়ে প্রাক্তন মালিকপক্ষের দায়ের করা সব মামলা উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে বর্তমানে কোনো আইনগত বাধা নেই। এরপরও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি) বছরের পর বছর ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন পাওনা থেকে বঞ্চিত থাকার কারণে চিকিৎসা, পুষ্টি ও অর্থাভাবে ইতোমধ্যে ৩৭৫ জনের বেশি শ্রমিক-কর্মচারী মারা গেছেন। জীবিত শ্রমিক ও মৃত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় শ্রমিকদের পাওনা নিষ্পত্তি না করে মিলের মূল্যবান জমি অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।

বিবৃতিতে অবিলম্বে শ্রমিক-কর্মচারী ও কর্মকর্তার সব আইনানুগ পাওনা পরিশোধের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পাওনা সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত মিলের জমি বা অন্য কোনো সম্পদ তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, শ্রম অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিটিএমসি এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জরুরি যৌথ সভা আহ্বান করে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানান নেতারা।

অন্যথায় ন্যায্য অধিকার আদায়ে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও