রবিবার, ৩ মে ২০২৬

[the_ad id='15178']

জাতীয় স্বার্থে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা জরুরি

মোহাম্মদ ইউসুফ

সম্ভাব্য সকল উপাদান থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্র তথা সরকারের নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছা আন্তরিকতার অভাবে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা হচ্ছে না। অথচ দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা জরুরি। প্রাকৃতিক ও ভৌগলিকভাবে চট্টগ্রাম স্বয়ংসম্পূর্ণ এক জনপদ। সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি-সবই এখানে বিদ্যমান। ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার কথা বলেছিলেন। পরে ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন এ নিয়ে আলোচনা চললেও তা বাস্তবতার মুখ দেখেনি। চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী না হওয়ার পেছনে নানা কারণও রয়েছে। বাজার,বাণিজ্যিক ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সকল সুযোগ-সুবিধা ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় বন্দরশহর চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী হয়ে ওঠেনি। চট্টগ্রামকে শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভাবলে হবে না, এটিকে বৈশ্বিকভাবে চিন্তা করতে হবে। আঞ্চলিক সংযোগের কথা বিবেচনায় এনে চট্টগ্রামকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। চট্টগ্রাম একটি রিজিওনাল হাব হতে পারে। ভারত, চীন, মিয়ানমার,নেপাল,ভুটানকে সংযুক্ত করে চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

- Advertisement -

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে কার্যকর করতে হলে ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে বিকেন্দ্রীকরণ করে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর ও উপকূলকে কেন্দ্র করে লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। মহেশখালী থেকে নোয়াখালী, চাঁদপুর হয়ে ভোলা পর্যন্ত একটি ‘কোস্টাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর’ গড়ার পদক্ষেপ নিতে হবে। চট্টগ্রাম নগরকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করতে হলে নগর সরকার পদ্ধতি চালু করতে হবে। চট্টগ্রাম ও ঢাকার মেয়রেরা দীর্ঘসময় ধরে নগর সরকার প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবী জানালোও নীতিনির্ধারকদের কানে ঢুকেনি। শুধু চট্টগ্রাম নয় দেশের সকল সিটি কর্পোরেশনকে নগর সরকারে রূপান্তর করতে হবে। চট্টগ্রামকে লিজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। চট্টগ্রামকে হাব করা হলে ভারতের উত্তর-পূর্ব ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সাথে যোগাযোগ বাড়বে। বাণিজ্যিক রাজধানীর জন্যে চট্টগ্রামে রেলপথ, নদীপথ ও সড়কপথের মাধ্যমে বহুস্তরের যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে নদীপথের ব্যবহার বাড়াতে হবে। নদীপথে পরিবহন ব্যয় দশ ভাগের এক ভাগ,দূষণও অনেক কম। বাণিজ্যমন্ত্রণালয় অবশ্যই চট্টগ্রামে থাকতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রণালয়ও থাকতে হবে। চট্টগ্রামের গুরুত্ব বাড়াতে পারলে দেশ সার্বিকভাবে লাভবান হবে।

- Advertisement -shukee

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী ঘোষণা করা হলেও এটি এখনো কাগজে-কলমে। চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে যাতায়াত আড়াই ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে হবে। এর জন্যে একটি ডেডিকেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করতে হবে। রেলকেও বাইপাস দিয়ে ডাবল লাইন বা করিডর করতে হবে,যাতে ট্রেনে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় আসা-যাওয়া করা যায়। সীতাকুণ্ডে একটি অভ্যন্তরিণ নদীবন্দর চালু করা গেলে চট্টগ্রাম থেকে ভোলা ও বরিশালের দূরত্ব অনেক কমে যাবে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় কিংবা আট লেনে উন্নীত করতে হবে।

বিগত হাসিনা সরকারের আমলে বন্দর আধুনিকায়ন, নিউমুরিং টার্মিনাল, কিছু অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও বহুজাতিক ও বড় দেশীয় কোম্পানির সদর দপ্তর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় সরে গেছে। কারখানা চট্টগ্রাম হলেও সিদ্ধান্তকেন্দ্র ঢাকায়। চট্টগ্রামকে লজিস্টিক হাব-এ রূপান্তর করতে হবে, যাতে এটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে কাজ করতে পারে। ম্যানুফ্যাকচারিং হাব সফল করতে হলে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা জরুরি। আমাদের দরকার বিশ্বমানের কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ –যা মানসম্পন্ন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করবে। এছাড়া চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে হলে প্রয়োজন সরকারি সেবামূলক সব প্রতিষ্ঠান, সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা, বন্দর, পিডিবি, ইপিজেড, ইকোনমিক জোন সবকিছুর মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও সীতাকুণ্ড- এই অঞ্চলগুলো নিয়ে চট্টগ্রাম একটি পর্যটন হাব হতে পারে। কিন্তু সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে আমরা এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারছি না।মিয়ানমার ও চীনের সাথে রেলযোগাযোগ স্থাপন করতে হবে।

লেখক- প্রধান-সম্পাদক, সাপ্তাহিক চাটগাঁর বাণী ও চাটগাঁরবাণীডটকম

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও