বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ বগুড়া-৪ আসনে: ৬ আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ায় ভোটের টাকা লেনদেনের অভিযোগ তুলে জামায়াত কর্মীদের আটকে রাখার কারণে বিএনপি নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া প্রেসক্লাবে বিএনপি-জামাত পাল্টা-পাল্টি সাংবাদিক সম্মেলন করেছে। এঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানা গেছে।

- Advertisement -

এরআগে সোমবার মধ্যরাতে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার পারশুন গ্রামে ও একই দিন বিকালে উপজেলার ভুসকুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। দুই দলের এই সংঘাতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানাসহ দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

- Advertisement -shukee

এদিকে ওই এলাকার জামায়াত প্রার্থী দাবি করেছেন, বিএনপির মিছিল থেকে তাদের নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয় এবং মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের দুই কর্মীকে আটকে রেখে মারপিট করে বিএনপি কর্মীরা। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বগুড়া বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় জেলা পুলিশের মিডিয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন বলেন, এই ঘটনায় সকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষই মামলা করেনি। মামলা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এদিকে এই ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় আহত মাসুদ রানার পক্ষে এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, ওই সময় তারা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে বেশ কিছু লোকের সমাগম দেখতে পেয়ে সেখানে যান। তাদের দাবি, সেখানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ দুজনকে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে নিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই জামায়াতের প্রায় দুই শতাধিক কর্মী লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা বিএনপি নেতা মাসুদ রানা ও তার ভাইকে মারধর করে এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এ সময় মাসুদ রানার বাড়িসহ তিনটি বাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলায় মাসুদ রানা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় বগুড়া প্রেসক্লাবে আহত মাসুদের ছেলে সিয়াম আকন্দ এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, পরাজিত শক্তি ও আওয়ামী লীগ এক হয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমার পিতার চোখ উপরে ফেলে। সম্মেলনে বিএনপি সংসদ সদস্য বগুড়া-৪ এর প্রার্থী মো. মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা সহ জেলার ও নন্দিগ্রাম-কাহালু বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন আরও বলেন, কীভাবে পুলিশের সামনে হামলার ঘটনা ঘটলো! এভাবে চলতে থাকলে ভোটের দিন তারা কীভাবে দুর্বৃত্তায়ন করবে! এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অপরদিকে, বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সাংবাদিক সম্মেলনে হামলার ঘটনা জামায়াত ঘটায়নি বলে দাবি জানান, তাদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা হয়নি। আটক বেলাল ও ফারুককে তাদের পরিবারের লোকজন উদ্ধার করতে গিয়েছিল। এছাড়া ভুসকুর গ্রামে বিএনপির লোকজন তাদের কর্মী গালিবকে মারধর করে আহত করেছে এবং আরও দুই কর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে আটক রেখে নির্যাতন চালিয়েছে। আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড চাই। কোন হানাহানি চাইনা। এসময় বগুড়া -৬ আসনের জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল সহ জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, এই ঘটনায় এলাকায় উত্তপ্ত হয়েছে। উভয়দলের ৬ জন আহত হয়েছে। তারা হলেন, বিএনপি মাসুদ রানা ও তার ভাই আমিনুল, জামায়াতের ফারুক, বেল্লাল, বাকিউল ও গালিব।

পৃথক দুটি ঘটনায় এই ঘটনায় জামায়াত থানায় অভিযোগ না দিলেও বিএনপির পক্ষে একটি এজাহার দেয়া হয়েছে।

সর্বশেষ

আবারও ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ

এই বিভাগের আরও