গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের গ্রামীণ হতদরিদ্র নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। আর এ কারণেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, ফ্যামিলি কার্ড বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ ছিল। আমরা নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করছি।’

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার গাবতলীর নশিপুরের বাগবাড়ীতে শহীদ জিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিশ্বাস করে, এমনকি বিএনপি সরকার বিশ্বাস করে যে, এই দেশের মানুষ যদি সচ্ছল থাকে, সুখে থাকে তাহলেই সমগ্র বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সরকার নারী প্রধান পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পেছনে পড়া নারী সমাজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে চাই, অর্থনৈতিকভাবে তাদের সচ্ছল করতে চাই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে কিভাবে নারীর ক্ষমতায়ন করা যায়, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করা যায়।’
সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে চার কোটি পরিবার রয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সেই চার কোটি পরিবারে যারা নারী প্রধান আছে, তাদের কাছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে যাবে।’
এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল, এই উদ্যোগকে সরকার ও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক একটি দিন হিসেবে উল্লেখ করেন।
দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চাই। তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের দল বাংলাদেশের মানুষ ও নারী সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ফ্যামিলি কার্ড দেবে। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বিগত নির্বাচনে সরকার গঠন করায় কম সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতির কাজ আমরা শুরু করেছি।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে।‘ এ সময় তিনি শহীদ জিয়া ডিগ্রী কলেজকে সরকারিকরণের ঘোষণা দেন।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী স্লোগান মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘প্রত্যেকটি নির্বাচনী জনসভায় একটি কথা আমার বক্তব্যের শেষে আমি তুলে ধরতাম। সেই কথাটি ছোট্ট একটি স্লোগানের মাধ্যমে আপনাদের সকলের কম-বেশি জানা আছে। সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্লোগানটি পৌঁছে গেছে। আজকে সেই স্লোগানটি দিয়েই আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই। সেই স্লোগানটি ছিল— করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
পরে অনুষ্ঠান মঞ্চে ১০ জন নারী পরিবার প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। পরে উপজেলার মোট ৯৩৮ জন নারীকে এই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়।
ফ্যামিলি কার্ড পেয়ে ভারতী রানী, শ্যামলী আক্তার, বাবলি বেগম খুশিতে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। জীবনে স্বপ্নেও ভাবিনি এই কার্ড হাতে পাবো। এই টাকা পেলে আমার পরিবারের অনেক সাহায্য হবে। আমরা সুখে থাকতে পারব।
এর আগে, দুপুর ২টার দিকে বাগবাড়ীতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তার আগমনকে কেন্দ্র করে বাগবাড়ী ও এর আশপাশের এলাকায় ভোর থেকেই আনন্দ ও উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড সুবিধাভোগী নারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
সকাল থেকেই শতশত নারী ও নশিপুর ইউনিয়নবাসী উদ্বোধনী এলাকার আশপাশে জড়ো হতে শুরু করেন। রাস্তায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। রাস্তার দু’পাশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছায় স্বাগতম স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। কেউ কেউ দূর থেকে হাত নাড়িয়ে নিজ জন্মভূমি বাগবাড়ীর ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন ও স্বাগত জানান।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাগবাড়ীতে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ও চৌকিরদহ খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। সেইসাথে তিনি জিয়াউর রহমানের পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শন করেন।
শহীদ জিয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এমপি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।
এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন পুতুল এমপি, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ আসনের এমপি রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-৭ আসনের এমপি মোরশেদ মিল্টন, নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রাজ্জাকুল আমিন তালুকদার রোকন প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, এমপি মোশারফ হোসেন, এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, এমপি মুহিত তালুকদার, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা: মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ সরকারের বিভিন্ন দফতর প্রধান, কেন্দ্রীয় বিএনপি, জেলা-উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

