Sunday, 16 August 2026

[the_ad id='15178']

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই দলের শক্তির পার্থক্য ছিল আকাশ-পাতাল। সর্বশেষ দুটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলা অস্ট্রেলিয়া গত ২৩ টেস্টের ১৮টিতেই জয় পেয়েছিল। অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিকভাবে সংগ্রাম করা বাংলাদেশ এশিয়ার বাইরে সর্বশেষ ২৬ টেস্টের ২২টিতেই হেরেছিল। তবে মাঠের ক্রিকেটে এসব পরিসংখ্যানের কোনো প্রভাবই দেখা যায়নি। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ক্রিকেটবিশ্বকে নিজেদের শক্তির জানান দিলো নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

- Advertisement -

চতুর্থ ইনিংসে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৭ রান। চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে কোনো রকম চাপ না দেখিয়ে সেই রান তুলে নেয় বাংলাদেশ। মুমিনুল হক অপরাজিত থাকেন ৩০ রানে, আর সাদমান ইসলাম অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে। বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সের পর ব্যাটারদের দায়িত্বশীলতায় ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয়।

- Advertisement -shukee

জয় নিশ্চিত করা বাউন্ডারিটি আসে মুমিনুলের ব্যাট থেকে। বাউন্ডারি হাঁকানোর পর তার উদযাপনও ছিল বেশ শান্ত। অথচ সেই মুহূর্তেই বাংলাদেশ লিখে ফেলেছে নিজেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়।

চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশকে মাত্র ৫৭ রানের লক্ষ্য দেয়ার আগে অস্ট্রেলিয়াকে ২৮৪ রানে গুটিয়ে দেয় টাইগাররা। বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। মিরাজ তুলে নেন পাঁচ উইকেট। এর মাধ্যমে ম্যাচে তার ১৫তম পাঁচ উইকেটের কীর্তি পূর্ণ হয়। স্টিভ স্মিথসহ অস্ট্রেলিয়ার চারজন ডানহাতি ব্যাটারকে নিজের নিখুঁত অফস্পিনে সাজঘরে ফেরান তিনি। পাশাপাশি প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ৬৫ রান করে দলের জয়ের ভিতও গড়ে দিয়েছিলেন মিরাজ।

পেসার হাসান মাহমুদও ছিলেন দুর্দান্ত। পুরো ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে তিনি গড়েছেন দারুণ এক কীর্তি। গত ১৫ বছরে জাসপ্রিত বুমরাহ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কোনো সফরকারী বোলারের সেরা ম্যাচ বোলিং ফিগার এটি।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ব্যাট করে ঘরের মাঠে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। মাত্র চারটি বাউন্ডারিতে ধৈর্যের অসাধারণ পরীক্ষা দিয়ে ব্যাট করা গ্রিন শেষ পর্যন্ত ১০০ রানে থামেন। তবে তার এই লড়াইও অস্ট্রেলিয়াকে বড় লক্ষ্য এনে দিতে পারেনি। হাসান মাহমুদের বলে ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানলে গ্রিনের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। অস্ট্রেলিয়ার শেষ প্রতিরোধও তখন কার্যত শেষ হয়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই জয়কে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি ২০১৭ সালে ঢাকায় অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর চেয়েও এই জয়কে বেশি স্মরণীয় বলে মনে করা হচ্ছে। ম্যাচশেষে সেটি অবলীলায় স্বীকার করলেন অধিনায়ক শান্ত। শুধু টেস্ট নয়, সব সংস্করণ মিলিয়েই এটিকে সেরা জয় বললেন তিনি। তাইতো এটি শুধু একটি জয় নয়; বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ২২ আগস্ট, ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও