Sunday, 16 August 2026

[the_ad id='15178']

সীতাকুণ্ডে শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে শিল্প সচিব

জাহাজের বিষাক্ত গ্যাস নিষ্ক্রিয় না করে ছাড়পত্র ও কাটিং করা যাবেনা

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজের গ্যাস নিস্কাশন করাকালে   জমে থাকা  বিষাক্ত গ‌্যাসে ৯ জন শ্রমিক ও উদ্ধারকারী নিহতের ঘটনা সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন  শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, সেনাবাহিনীর জিওসি,জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, বিস্ফোরক কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা সংস্হার কর্মকর্তাবৃন্দ। তছাড়া ফায়ার সর্ভিসের বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় একটি টিম বিস্ফোরিত জাহাজে প্রবেশ করে গ্যাস নিষ্ক্রিয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

- Advertisement -

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯ টায় দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান সেলিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

- Advertisement -shukee

পরিদর্শনে শিল্প সচিব বলেন, জাহাজে দুর্ঘটনার কারণ সনাক্ত করতে মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি করা হয়েছে,কমিটির  প্রধান এখানে উপস্থিত আছেন। জাহাজের ভেতরে হাইড্রোজেন সালফাইড ঝুঁকিমুক্ত করার পর উনারা সেখানে প্রবেশ করে ভেতরের বিষয়গুলো দেখবেন। যারা যারা এটাতে সংশ্লিষ্ট আছেন কমিটির কর্মকর্তাগণ তাদের সাথে কথা বলবেন। তদন্ত কমিটি সাত দিনের মধ‌্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তারপর আমরা আমাদের  আইনী  কার্যক্রম গ্রহণ করব। এই দুর্ঘটনার পেছনে কারো যদি দায়িত্বে অবহেলা বা গাফিলতি থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব‌্যবস্থা নেয়া হবে।

ভাটিয়ারি ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে গতকালের দুর্ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ঘটনার সাথে সাথে আমরা সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে ব‌্যবস্থা নিয়েছি। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব‌্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনার পর সেনাবাহিনীর এক্সপ্লোসিভ টিম এখানে এসেছে। যারা এক্সপ্লোসিভ নিয়ে কাজ করে তাদের সাথে পরামর্শ করে ওয়াশ আউট এর ব‌্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পরিদর্শন শেষে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তার মধ‌্যে রয়েছে জাহাজটির ভেতরের অংশে হাইড্রোজেন সালফাইড ছিল তা পরিষ্কার করা হবে। এমনভাবে করা হবে যাতে পানিতেও না মিশে বাতাসেও না মিশে। জনসাধারণের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় সেদিকে লক্ষ‌্য রাখতে হবে। এরপরই জাহাজ কাটিং করা যাবে।

শিপ ইয়ার্ডে নিহতের ঘটনায় শিল্প মন্ত্রালয় থেকে ১১ সদস‌্য এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯ সদস‌্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এসময় বিষ্ফোরক অধিদপ্তর চট্টগ্রামের পরিদর্শক এস এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, জাহাজটিতে হাইড্রোজেন সালফাইড অতিরিক্ত মাত্রায় ছিল। হাইড্রোজেন সালফাইডের বিষাক্ততায় এত বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছি। আমাদের সবাইকে মিলে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আগে জাহাজটিতে থাকা হাইড্রোজেন সালফাইড ড্রেন আউট করে নিরাপদ করা হবে।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, দুর্ঘটনা  এড়াতে শিপ ইয়ার্ডকে উন্নত প্রযুক্তি গ্রীণ ইয়ার্ড করা হচ্ছে, ষ্ক্র্যাপ জাহাজটিতে বিষাক্ত গ্যাস মুক্ত করার পরও গ্যাস থেকে যাওয়ার ফলে এই দুর্ঘনাটি ঘটেছে,শুক্রবার সাধারণত ইয়ার্ডে কাজ চলেনা গ্যাস নিষ্ক্রিয় সম্পন্ন করতেই সেদিন তাদের কাজ চলছিল,কাটিং স্হানটিতে গ্যাসের মাত্রা বেশী থাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনার পর আমাদের আরো সতর্ক হয়ে কাজ করতে হবে,

শিল্প মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি আমরা এসোসিয়েশন  একটি তদন্ত টিম করেছি  উক্ত টিম এই দুর্ঘটনার কারণ বের করবে।

আমরা নিহতদের পরিবারদের মধ্যে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লক্ষ টাকা করে খুব শিগগিরই হস্তান্তর করবো।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও