শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

[the_ad id='15178']

দুর্যোগে ব্যবসায়ীদের ভূমিকা প্রশংসনীয়: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, যে কোনো দুর্যোগের কঠিন সময়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং দেশের ব্যবসায়ী সমাজের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতি যেভাবে দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, তা মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

- Advertisement -

ব্যবসায়ীদের এই উদ্যোগ অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করবে।

- Advertisement -shukee

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের মাঝে তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত খাদ্য ও জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সুখে-দুঃখে তামাকুমন্ডি লেইনের ব্যবসায়ীরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন এবং আছেন।

আগামীতেও যেকোনো সামাজিক ও মানবিক সংকটে এই সেবামূলক ধারা অব্যাহত থাকবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতির সভাপতি আবু তালেব, সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, সিনিয়র সভাপতি ফারুক আজম, সহ সভাপতি সেলিম বজলুর রহমান, সহ সাধারণ সম্পাদক সেলিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, মাহবুবর রহমান, অ্যাডভোকেট শাহজাহান, মিনহাজ উদ্দিন, মিনহাজুল আবেদিন, নাজিম উদ্দীন, রেজাউল করিম, বোরহান উদ্দিন, মনসুর আলম, সাদ্দাম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, নরুল ইসলাম বিপ্লব সহ নেতৃবৃন্দ।

দক্ষিণ চট্টগ্রামে বন্যায় প্রায় সাত লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে এবং তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে লোহাগাড়া উপজেলায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রাথমিক হিসেবে প্রায় ৭ লাখ জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৪০ হাজার পরিবারকে চাল, ৭৫ হাজার পরিবারকে চাল-ডালসহ শুকনা খাবার এবং ৪০ হাজার পরিবারকে রান্না করা খাবার দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এখন শুধু ত্রাণ নয়, পুনর্বাসন কার্যক্রমও একসঙ্গে চলছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের জন্য টিন সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বীজ, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা দ্রুত চাষাবাদে ফিরতে পারেন। বন্যায় অনেক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগকে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়ন শেষে দ্রুত মেরামত কাজ শুরু হবে।

বন্যার কারণ প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী  বলেন, বিষয়টি নিয়ে সমন্বিতভাবে তদন্ত চলছে। কোথাও রেললাইন, কোথাও অপরিকল্পিত স্থাপনা কিংবা পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা বন্যার কারণ হতে পারে। একইসঙ্গে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাতও এ বন্যার অন্যতম কারণ। সব বিষয় পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষ বরাদ্দের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং ভবিষ্যতে বন্যার ক্ষতি কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এমপি আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১২ আসনের এমপি এনামুল হক এনাম, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন প্রমুখ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও