শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

[the_ad id='15178']

মুক্তিযোদ্ধা পাহাড় এলাকায়  পাহাড় ধ্বসে শিশু সায়মার মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে সমাবেশ

পাহাড় কাটায় যুক্তদের শাস্তি ও নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযোদ্ধা পাহাড় এলাকায় গতকাল  পাহাড় ধ্বসে শিশু সায়মার মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রতিবাদে আজ ৯ জুলাই পাঁচলাইশ মুক্তিযোদ্ধা পাহাড় সংলগ্ন দুর্ঘটনাকবলিত স্থানের সামনে এলাকাবাসী ও শহীদ রুমি স্কোয়াডের  মানববন্ধন ও ষোলশহর রেল স্টেশনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে পাহাড় কাটায় যুক্তদের শাস্তি ও নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি করা হয়েছে।

- Advertisement -

আসমা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রিপা মজুমদার, সানজিদা আক্তার মিম, জমিরন বেগম, শান্তা ইসলাম, সিদ্দিক মিয়া প্রমুখ।

- Advertisement -shukee

সমাবেশ থেকে  পাহাড় ধ্বসে নিহত সায়মার পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, পাহাড়ে বসবাসরত গরীব শ্রমজীবী মানুষদের জন্য সরকারি উদ্যোগে সাশ্রয়ী আবাসন ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরূদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন,বর্ষায় ভারী বর্ষণ হলে চট্টগ্রামে পাহাড় ধ্বসে মর্মান্তিক প্রাণহানি যেন ন্বাভাবিক  ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধ্বসে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি ’ গঠিত হয়েছিল। পাহাড় ধ্বসে মৃত্যু বন্ধে সে কমিটির ৩৬ দফা সুপারিশের অন্যতম ছিল- আবাসন, বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা,যারা পাহাড় কাটবে বা পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ বস্তি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ, পাহাড়ে বসবাসরত প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা ইত্যাদি। অথচ সে সুপারিশগুলোর কোনোটাই বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিটা সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে পাহাড় দখল,পাহাড় কেটে পাহাড়ের পাদদেশে বসতি নির্মাণ চালিয়ে গিয়েছে,কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ষোলশহরের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড় এলাকায় পাহাড় ধ্বসে মৃত্যুর পেছনে প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন  প্রভাবশালী মহলের পাহাড় কাটা দায়ী। প্রশাসন এ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে এতদিন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায়,পাহাড় ধ্বসে আজকের এ মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটলো।

ফলে সরকার ও প্রশাসন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে এ মৃত্যুর দায় এড়াতে পারেনা। এছাড়া  গরীব শ্রমজীবী মানুষ জীবিকার সন্ধানে শহরে এসে পাহাড়ের পাদদেশে এধরণের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়। তারাই প্রধানতঃ পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানির শিকার হয়। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকারি উদ্যোগে সাশ্রয়ী আবাসন ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে প্রতি বর্ষায় মানুষকে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ কেবল সাময়িক সমাধান হয়েই থাকবে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও