ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, শব্দদূষণ ও জনদুর্ভোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শন ও উদযাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউডস্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম হাইকোর্টে এ রিট আবেদন করেন।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে দেশে এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া রাতের বেলা উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফোটানো ও লাউডস্পিকারের ব্যবহার শিশু, বয়স্ক এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ঘুমে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে।
আবেদনকারী আইনজীবী বলেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে উৎসব উদযাপন যেন জনদুর্ভোগ বা সহিংসতার কারণ না হয়, সে জন্য আদালতের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। রিটের সঙ্গে এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনও সংযুক্ত করা হয়েছে।
রিটে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৪৫ জন আহত হওয়ার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দিকে কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ব্রাজিল সমর্থক মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার ঘটনাও রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় মৃত্যুর সংখ্যা ১১ জনে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হয়।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যেসব স্থানে বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শনের আয়োজন করা হবে, সেখানে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) নজরদারি জোরদার করবে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলাধুলায় জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। তার মতে, খেলাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের প্রবণতা সামাজিক সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করতে হবে।

