বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

[the_ad id='15178']

চট্টগ্রামে পাহাড় ধ্বসে শিশুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও পাহাড় কাটায় যুক্তদের শাস্তি দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক ও পাঁচলাইশ থানা শাখার আহবায়ক যথাক্রমে  এডভোকেট শফি উদ্দিন কবির আবিদ ও  আসমা আক্তার  ৮ জুলাই এক যৌথ বিবৃতিতে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন মুক্তিযোদ্ধা পাহাড় (চশমা হিল) এলাকায় আজ বুধবার সকালে পাহাড় ধ্বসে ১১ বছরের এক শিশু ও গতকাল রহমাননগরে পাহাড় সংলগ্ন দেয়াল ধ্বসে এক যুবকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং পাহাড় ধ্বসে মৃত্যু ঠেকাতে প্রশাসনের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

- Advertisement -

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন,“বর্ষায় ভারী বর্ষণ হলে চট্টগ্রামে পাহাড় ধ্বসে মর্মান্তিক প্রাণহানি যেন ন্বাভাবিক  ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ২০০৭ সালের ১১ জুন চট্টগ্রামে ভয়াবহ পাহাড়ধ্বসে ১২৭ জনের মৃত্যুর পর ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটি ’ গঠিত হয়েছিল। পাহাড় ধ্বসে মৃত্যু বন্ধে সে কমিটির ৩৬ দফা সুপারিশের অন্যতম ছিল- আবাসন, বাণিজ্যিক বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা,যারা পাহাড় কাটবে বা পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধ বস্তি গড়ে তুলতে সহযোগিতা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ, পাহাড়ে বসবাসরত প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা ইত্যাদি।অথচ সে সুপারিশগুলোর কোনোটাই বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিটা সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধে পাহাড় দখল,পাহাড় কেটে পাহাড়ের পাদদেশে বসতি নির্মাণ চালিয়ে গিয়েছে,কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ষোলশহরের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড় এলাকায় পাহাড় ধ্বসে মৃত্যুর পেছনে প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের পর দিন  প্রভাবশালী মহলের পাহাড় কাটা দায়ী। প্রশাসন এ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে এতদিন কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায়,পাহাড় ধ্বসে আজকের এ মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটলো। ফলে সরকার ও প্রশাসন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে এ মৃত্যুর দায় এড়াতে পারেনা। এছাড়া  গরীব শ্রমজীবি মানুষ জীবিকার সন্ধানে শহরে এসে পাহাড়ের পাদদেশে এধরণের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়।তারাই প্রধানতঃ পাহাড় ধ্বসে প্রাণহানির শিকার হয়।স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকারী উদ্যোগে সাশ্রয়ী আবাসন ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না হলে প্রতি বর্ষায় মানুষকে সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ কেবল সাময়িক সমাধান হয়েই থাকবে।

- Advertisement -shukee

নেতৃবৃন্দ পাহাড় ধ্বসে নিহতদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, পাহাড়ে বসবাসরত গরীব শ্রমজীবী মানুষদের জন্য সরকারী উদ্যোগে সাশ্রয়ী আবাসন ও স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও পাহাড় কাটার সাথে জড়িতদের বিরূদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও