যেকোনো মুহূর্তে আঘাত হানতে পারে প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প। বাংলাদেশ ও এর আশপাশের ভূতাত্ত্বিক অবস্থান এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, বড় ধরনের একটি ভূকম্পন কোটি মানুষের এই ঢাকাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের বরাতে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র—ঢাকায় সাত মাত্রার একটি ভূমিকম্প হলেই মুহূর্তের মধ্যে প্রাণ হারাতে পারেন ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষ।
প্রকৃতির এই আসন্ন বিপদের বড় সংকেত মিলছে সাম্প্রতিক সময়ে। সামান্য ব্যবধানে পরপর দুদিন ঢাকায় মৃদু ও কাঁপুনি দিয়ে ভূমিকম্প জানান দিয়ে গেল যে, সামনে হয়তো আরও খারাপ কিছু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। শুধু ঢাকা নয়, চলতি মাসেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কয়েকবার

মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ঘন ঘন এই কাঁপুনি এখন সাধারণ মানুষের মনে একটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পের চরম আতঙ্ক ও আশঙ্কা তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকা ও এর চারপাশের ফল্ট লাইনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরনের শক্তি জমিয়ে রেখেছে। ১৫০-২০০ বছরের চক্র অনুযায়ী, বাংলাদেশে একটি ৭ মাত্রার ভূমিকম্প এখন যে কোনো সময় ঘটতে পারে। যদি টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে এই তীব্রতার ভূমিকম্প হয়, তবে রাজধানী এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হবে। শুধু রাতের বেলা আঘাত হানলে হতাহতের সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। রাজউকের এক জরিপ বলছে, এই মাঝারি তীব্রতার কম্পনেই ঢাকার প্রায় ৭২ হাজার বহুতল ভবন তাসের ঘরের মতো সম্পূর্ণ ধসে পড়বে।
এই চরম বিপর্যয়ের মূল কারণ আমাদের নিজেদের তৈরি। ঢাকার ৪১ শতাংশ ভবনই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অর্ধেকের বেশি কংক্রিটের কাঠামো তৈরি হয়েছে কোনো জাতীয় বিল্ডিং কোড না মেনে। জলাশয় আর নিচু জমি ভরাট করে তৈরি হওয়া নতুন আবাসন এলাকাগুলো রয়েছে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে। সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হলো, কম্পনের পরপরই ভূগর্ভস্থ গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইন থেকে পুরো শহরে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়বে। পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মাত্র তিন-চার ফুটের সরু গলির কারণে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী গাড়ি ঢোকার কোনো সুযোগই থাকবে না।
এই মহাবিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে সরকারকে নিতে হবে কঠোর পদক্ষেপ । ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে শক্তিশালী করতে হবে এবং নতুন ভবন তৈরিতে শতভাগ আইন মানতে হবে। প্রকৃতির এই অমোঘ আঘাত আসার আগেই যদি সতর্ক না হওয়া যায়, তবে এই কোটি মানুষের নগরী একদিন শুধুই ধ্বংসস্তূপের ইতিহাস হয়ে থাকবে।

