অগ্নিদুর্ঘটনা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মানুষের জানমাল রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। অগ্নি দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং দুর্যোগ মুহূর্তে দ্রুত সাড়া দিতে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
বুধবার (২০মে) চট্টগ্রামের কালুরঘাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে আয়োজিত “ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক বিএফএম (এস) মো. জসীম উদ্দিন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বহুতল ভবন, শিল্পকারখানা, মার্কেট ও আবাসিক এলাকায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি বলেন, শুধু দুর্ঘটনার পর উদ্ধার তৎপরতা নয়, দুর্ঘটনা প্রতিরোধেও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত সরঞ্জাম দিয়ে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদেরও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে দ্রুত সাড়া দিতে হয় সে বিষয়ে প্রশিক্ষিত হতে হবে।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে এ বাহিনীর সদস্যরা অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ান। তিনি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নগরায়ন ও শিল্পায়নের ফলে অগ্নি ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার, ভবন নির্মাণে নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি সময়ের দাবি।
আয়োজকরা জানান, সপ্তাহব্যাপী এ কর্মসূচিতে অগ্নিনির্বাপণ মহড়া, সচেতনতামূলক আলোচনা সভা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে, যাতে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।


