শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

[the_ad id='15178']

লালদিঘি জুড়ে জব্বারের বলীখেলা ও মেলায় মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্দরশহর চট্টগ্রামের শতবছরের ঐতিহ্য যেন বছর ঘুরে আবার নিজের আসল রূপে ফিরেছে। লাখো মানুষের ঢল লালদিঘি মাঠ ঘিরে, জব্বারের বলীখেলা ও মেলায় রঙিন পসরা আর মাইকভরা ডাক মিলিয়ে কোতোয়ালির পুরো  লালদিঘি এলাকায় এক অনন্য উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে ।

- Advertisement -

শতবর্ষী জব্বার বলীখেলা ঘিরে বসা বৈশাখী এই মেলা শুধু একটি আয়োজন নয়– এটি চট্টগ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি আর মানুষের মিলনমেলার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।

- Advertisement -shukee

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) শুরু হওয়া এই মেলা শুধু কেনাবেচার জায়গা নয়, বরং চট্টগ্রামের নিজস্ব সংস্কৃতির পরিচায়ক। আর ঐতিহ্যবাহী বলি খেলার আসর বসেছে আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল ৩টায়। এবার লালদিঘী মাঠে বালু দিয়ে বানানো মঞ্চে শুরু হয়েছে বলিখেলা ।

১১৭তম বলীখেলার মেলায় রঙিন খেলনা, মাটির হাঁড়ি, বাঁশের তৈরি সামগ্রী, বৈশাখী সাজসজ্জা, ছোট বড় শত শত দোকানে সাজানো পসরা যেন এক টুকরো গ্রামীণ বাংলাকে শহরের বুকে এনে বসিয়েছে।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে মাটির তৈজসপত্র, খেলনা আর বাঁশ-বেত, মুড়ি-মুড়কি, গাছের চারা, ফুলঝাড়ু, হাতপাখাসহ নানা ধরনের গৃহস্থালি ও লোকজ বিভিন্ন পণ্য সাজিয়ে বিকিকিনি শুরু করে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মেলায় সবচেয়ে বেশি এসেছে মাটির তৈরি জিনিসপত্র। মাটির তৈরি ঘর সাজানোর বিভিন্ন ধরনের আসবাব, শৌখিন জিনিসপত্র, শিশুদের খেলনার পুতুল নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। কাঠের তৈরি খাট, আলমিরা, আলনাসহ আরও নানা আসবাবপত্র নিয়েও বসেছেন কয়েকজন দোকানি।

১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী চেতনা থেকে ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর এর সূচনা করেছিলেন। সময়ের স্রোত পেরিয়ে আজ তা শুধু একটি খেলাই নয়, বরং চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেলা ও বলী খেলাকে ঘিরে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রয়েছে মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের প্রস্তুতি, যাতে দর্শনার্থীরা নিশ্চিন্তে উপভোগ করতে পারেন এই ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

তবে এবারের মেলার সময়সূচিতে আছে একটু পরিবর্তন। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা মাথায় রেখে ২৬ এপ্রিল ভোরের মধ্যেই মেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ৩০০টিরও বেশি খুঁটি দিয়ে নির্মিত বিশেষ মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলার উদ্বোধন হয়। এবারের আসরে অংশ নিচ্ছেন ১০৮ জন বলী।

খেলা শুরুর আগেই মাঠ ও আশপাশ এলাকায় জড়ো হন হাজারো দর্শক। প্রতিটি লড়াই ঘিরে তৈরি হচ্ছে তুমুল উত্তেজনা, করতালি ও উচ্ছ্বাস। পুরো এলাকা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

এবারের আসরে নজর কাড়ছেন গতবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লার বাঘা শরীফ ও রানার্সআপ রাশেদ বলী। তাদের সম্ভাব্য লড়াই ঘিরে দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে।

শত বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও লালদীঘির এই বলীখেলা এখনও সমানভাবে টানে দর্শকদের। এই আয়োজন শক্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও