লিভারপুলের সময়টা ভালো যাচ্ছে না । তবুও ম্যাচটি ঘরের মাঠে বলেই চ্যাম্পিয়নস লিগে অলৌকিক কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কোচ আর্নে স্লট। সেটি আর হলো কোথায়? আবারও পিছু তাড়া করল সেই বিবর্ণতা। এতে পিএসজির বিপক্ষে ঘরের মাঠেও হার দেখল অলরেডরা। বিদায় নিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনগত রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে লিভারপুলের ঘরের মাঠ অ্যানফিল্ডে ২-০ গোলে জিতেছে পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-০ গোলের ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে চলে গেল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে, ঘরের মাঠে ৫১ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নিয়েছে লিভারপুল। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল মোটে ৫টি। অন্যদিকে, ৪৯ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১২টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রেখেছিল পিএসজি।
ম্যাচ শুরুর আগেই গ্যালারিতে লিভারপুল সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার ভেসে আসছিল। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে আর প্রতিপক্ষের মনে ভয় ধরাতে নিজেদের সবটুকুই করেছে লিভারপুল সমর্থকরা। তবে মাঠের খেলায় নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারেননি ফুটবলাররা।
প্রথমার্ধে বল দখলে রেখে আক্রমণে আধিপত্য দেখায় পিএসজি। যদিও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। লিভারপুলও ভুগেছে একই সমস্যায়। উল্টো তাদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে উগো একিটিকের চোট। স্ট্রেচারে করে তিনি মাঠ ছাড়লে বদলি হিসেবে নামেন দলের প্রাণভোমরা মোহামেদ সালাহ।
মাঠে নেমেই সুযোগ তৈরি করেছিলেন সালাহ। তাঁর ক্রসে ভার্জিল ফন ডাইক গোলমুখে শট নিলেও পিএসজি অধিনায়ক মার্কিনিয়োস অবিশ্বাস্য এক স্লাইডে দলকে নিশ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
বিরতির পর আলেকসান্দার ইসাককে তুলে নিয়ে কোডি হাকপোকে নামান লিভারপুল কোচ। এই অর্ধে লিভারপুলের আক্রমণেও ধার বাড়ে। মোট ১৭টি শট নিলেও পিএসজির রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি স্বাগতিকরা
ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টার বক্সে পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন, কিন্তু ভিএআর দেখে পরে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করেন তিনি। ৬৮তম মিনিটে তরুণ তারকা রিও নুগোমাহোর একটি দুর্দান্ত শট রুখে দেন পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনোভ।
লিভারপুল যখন গোলের জন্য মরিয়া, ঠিক তখনই পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন উসমান দেম্বেলে। ম্যাচের ৭২তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এই গোলেই লিভারপুলের ফেরার সব আশা শেষ হয়ে যায়।
এরপর ম্যাচের যোগ করা সময়ে বার্কোলার পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে লিভারপুলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন দেম্বেলে।

