আসন্ন বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারতে দুটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা জুনের শুরুতে উত্তর আমেরিকার দেশ যুক্তরাষ্ট্রে এই ম্যাচ দুটি খেলবে বলে নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন।
আগামী ৬ জুন টেক্সাসের কলেজ স্টেশনে অবস্থিত বিখ্যাত ‘কাইল ফিল্ড’ স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে আলবিসেলেস্তেরা মুখোমুখি হবে হন্ডুরাসের। এর ঠিক তিন দিন পর ৯ জুন আলাবামার অবার্নে অবস্থিত ‘জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে’ ইউরোপীয় দল আইসল্যান্ডের বিপক্ষে লড়বেন লিওনেল মেসিরা।

এই ম্যাচ দুটিকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ম্যাচগুলোর ভেন্যু নিয়ে। জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামের ৮৭ বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামটি তার বিশাল ধারণক্ষমতার জন্য পরিচিত, যেখানে ১ লাখ ২ হাজারের বেশি দর্শক একসঙ্গে খেলা উপভোগ করতে পারেন। অবার্ন ও টেক্সাস এঅ্যান্ডএম বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাথলেটিকস ডিরেক্টররা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আতিথেয়তা দিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
তাদের মতে, বিশ্বকাপের ঠিক আগে আর্জেন্টিনার মতো দলের এমন সফর এই ভেন্যুগুলোর আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দেবে।
আর্জেন্টিনা দল এই দুটি ম্যাচে তাদের পূর্ণ শক্তির স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামবে। কোচ লিওনেল স্কালোনি এই ম্যাচগুলোকে বিশ্বকাপের মূল একাদশ ও রণকৌশল সাজানোর শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য এই সফরটি নতুন রেকর্ডের হাতছানি দিচ্ছে। মেসি যদি কাইল ফিল্ড বা জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে গোল করতে পারেন, তবে সেটি হবে কোনো কলেজ ফুটবল স্টেডিয়ামে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক গোল এবং আলাবামা অঙ্গরাজ্যে তার গোলের নতুন ইতিহাস।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে এই দুই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। হন্ডুরাসের বিপক্ষে আগের তিন লড়াইয়ের প্রতিটিতেই জিতেছে তারা, যার মধ্যে ২০২২ সালের সর্বশেষ ম্যাচটি ছিল ৩-০ ব্যবধানে। অন্যদিকে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একমাত্র স্মৃতি ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ, যেখানে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল।
এবারের বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে থাকা আর্জেন্টিনার লড়াই শুরু হবে ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্ব আসরের আগে এই দুটি প্রীতি ম্যাচই হবে মেসিদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয়ার চূড়ান্ত পরীক্ষা।

