চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংগৃহীত বর্জ্য পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুতে রূপান্তর করে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সোমবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) নগরীর পেনিনসুলা হোটেলে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম শহরে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প’-এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। আমরা বর্জ্যকে বোঝা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে দেখতে চাই। জাপানের সহায়তায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে সম্ভাবনা সমীক্ষায় উঠে এসেছে, তা বাস্তবায়নে সিটি কর্পোরেশন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
সমীক্ষা অনুযায়ী প্রস্তাবিত প্ল্যান্টের দৈনিক প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতা হবে ১,০০০ টন বর্জ্য এবং বার্ষিক ৩৩০ দিন পরিচালনার ভিত্তিতে প্রকল্পটি ২৫ বছর পরিচালিত হবে ।
প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১৫.১ মেগাওয়াট (গ্রস) এবং ১২.৬ মেগাওয়াট (নেট), যা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে ।
২০২৫ সালের হালনাগাদ সমীক্ষায় প্রস্তাবিত জি-টু-জি সহযোগিতা মডেলে জাপানের জেসিএম (Joint Crediting Mechanism) সহায়তায় ভর্তুকির সুযোগ রয়েছে ।
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরের ল্যান্ডফিলে যাওয়ার বর্জ্যের পরিমাণ ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে, ফলে ল্যান্ডফিলের আয়ু বাড়বে এবং পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে ।
সমীক্ষায় তিনটি ব্যবসায়িক মডেল বিশ্লেষণ করা হয়েছে—জি-টু-জি সহযোগিতা মডেল, প্রাইভেট সেক্টর বেনিফিট মডেল এবং লিমিটেড সাপোর্ট মডেল। এর মধ্যে প্রথম দুটি মডেলে ১১ শতাংশের বেশি অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার (P-IRR) অর্জন সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।
মেয়র বলেন, বাংলাদেশ-জাপান যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফর্মের আওতায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি, আর্থিক কাঠামো ও গ্যারান্টি সুবিধা নিশ্চিত হবে। এটি চট্টগ্রামকে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ওয়েস্ট-টু-এনার্জি সাফল্যের মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেবল বিদ্যুৎ নয়, বরং একটি টেকসই নগর ব্যবস্থাপনার অংশ। এতে একদিকে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে উঠবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অবদান রাখা সম্ভব হবে।
সভায় জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উপদেষ্টা ইজি কোগা, জে এফ ই ইঞ্জিনিয়ারিং-এর গেন তাকাহাশি, কেন্টা ওহাশি ও ভাস্কর সাহা উপস্থিত ছিলেন। চসিকের পক্ষ থেকে প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) আবু সাদাত তৈয়ব, নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন রিফাত, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, সহকারী প্রকৌশলী রুবেল চন্দ্র দাশ, সজীব রেজা হক, ইমরান হোছাইন খোকা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র বলেন, জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো প্রস্তুতি ও নীতিগত সমন্বয়ের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে চট্টগ্রাম নগরী আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

