মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারের পর বড় দুঃসংবাদ ভারতের

নিজস্ব প্রতিবেদক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হার কি জিনিস সেটা ভুলতেই বসেছিল ভারত। এই প্রতিযোগিতায় টানা ১২ ম্যাচ জিতেছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। অবশেষে ঘরের মাঠ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে হারের মুখ দেখল ম্যান ইন ব্লুজরা। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এক হারেই বড় ধাক্কা খেয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল।

- Advertisement -

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বকাপের সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরে গেছে ভারত। প্রোটিয়াদের ১৮৭ রান তাড়া করতে নেমে স্বাগতিকরা অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ১১১ রানে। ফলে গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও অন্য ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে সূর্যদের।

- Advertisement -shukee

সুপার এইটে গ্রুপ ওয়ানে বর্তমানে সবার ওপরে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট ২। বড় জয়ে তাদের নেট রানরেট +৩.৮০০। আর এই তালিকায় একেবারে তলানিতে ভারত। তাদের নেট রানরেট -৩.৮০০। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে এখনও সুপার এইটে কোনো ম্যাচ খেলেনি।

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের দলগুলোকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ৪ দল নিয়ে গড়া প্রতিটি গ্রুপ থেকে দুটি করে দল সেমিফাইনালে উঠবে। যদি দুই বা ততোধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হবে:

১. চার দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট পাওয়া দুই দল সেমিফাইনালে খেলবে।

২. যদি একাধিক দলের পয়েন্ট সমান হয়, সে ক্ষেত্রে যে দল বেশি ম্যাচ জিতেছে, তারা ওপরে থাকবে।

৩. পয়েন্ট ও জয় উভয়ই সমান হলে নেট রানরেটের মাধ্যমে অবস্থান নির্ধারণ হবে।

৪. নেট রানরেটও সমান হলে দলগুলোর মধ্যে মুখোমুখি লড়াইয়ের ফলাফল বিবেচনা করা হবে।

৫. এরপরও যদি দলগুলোকে আলাদা করা না যায়, তাহলে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত আইসিসি টি-টুয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত ক্রম নির্ধারিত হবে।

ভারতকে কী করতে হবে

দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যাওয়ার পর দলটি এখন বাকি দুই ম্যাচ জিতে সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট জোগাড় করতে পারবে। কাগজে-কলমে কাজটি সহজ: ২৬ ফেব্রুয়ারি চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়েকে আর ১ মার্চ ইডেন গার্ডেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে হবে। এর একটিতেও হেরে গেলে ভারতের সেমিফাইনাল একরকম অসম্ভবই হয়ে পড়বে। যেটুকু সম্ভাবনা থাকবে, সেটিও অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফল এবং নেট রানরেটের ওপর নির্ভর করবে।

দুটি জয়েও নিশ্চয়তা নেই

তবে ভারত বাকি দুটি ম্যাচ জিতলেই যে সেমিফাইনালে উঠে যাবে, তা নয়। জয়ের পাশাপাশি নেট রানরেটের ক্ষতিও কাটিয়ে উঠতে হবে। কারণ, গ্রুপের তিনটি দলের পয়েন্ট ৪ হওয়া খুবই সম্ভব, আবার একটি দলের ছয় ও দুটি দলের চার পয়েন্ট করে হওয়াও সম্ভব। তাই ভারতের কাজ শুধু জেতাই নয়, ভালোভাবে জেতাও। যার অর্থ হচ্ছে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করলে দ্রুত রান তাড়া করা, আর আগে ব্যাটিং করলে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করা।

সূর্যকুমারদের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় যদি দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের পরের দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় ব্যবধানে হারায়। এতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সেমিফাইনালে তো উঠবেই, পাশাপাশি জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানরেট কম থাকবে। সে ক্ষেত্রে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ-জিম্বাবুয়ের ম্যাচে যে দলই জিতুক, কারও মোট পয়েন্ট চারের বেশি হবে না। আর ভারতও এ দুটি দলকে হারিয়ে দিলে ৪ পয়েন্ট পেয়ে যাবে। তখন রানরেট হয়ে উঠবে মুখ্য।

তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা জিম্বাবুয়ের কেউ যদি দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দেয়, তাহলে ভারতের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে। সব মিলিয়ে ভারতের করণীয় এখন পরিষ্কার: জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতেই হবে, অন্তত একটি জয় হতে হবে বড় ব্যবধানের, যাতে রানরেটে পিছিয়ে থাকতে না হয়।

সর্বশেষ

নয় সচিবের চুক্তি বাতিল

এই বিভাগের আরও