জাল সনদ দিয়ে বাগিয়ে নেয়া স্কুল সভাপতির পদ খোয়ালেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর উত্তর গোমদণ্ডী উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী। চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। বুধবার (৬ আগস্ট) শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এর আগে দুপুরে তার বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে সভাপতির পদ বাগিয়ে নেয়ার অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদন দেয় তদন্ত কমিটি।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বোয়ালখালী উপজেলার উত্তর গোমদণ্ডী উচ্চবিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলীর দাখিল করা স্নাতক পাসের সনদটি জাল ও ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চলতি বছরের ২৪ মার্চ বোয়ালখালী উত্তর গোমদণ্ডী উচ্চবিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেয় । সম্প্রতি অভিযোগ ওঠে জাল সনদ ব্যবহার করে সভাপতি পদ বাগিয়ে নিয়েছেন পরিষদের সভাপতি পদে মনোনীত মোহাম্মদ আলী। সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ‘ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার’ বিভাগের ২০০৩ সালের একটি স্নাতক পাশের সনদ যুক্ত করেন তিনি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই নামে তাদের কোনো বিভাগ নেই। ইসলামিক স্টাডিজ নামে একটি বিভাগ চালু হয়েছিল ২০১০ সালে।
এছাড়া মাদক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ার বিষয় গোপনেরও অভিযোগ ওঠেছে তার বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর ১ হাজার লিটার চোলাই মদ উদ্ধারের একটি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি তিনি।
মোহাম্মদ আলী নিজেকে সাংবাদিক ও বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। তার ফেসবুক আইডিতে তিনি নিজেকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং দৈনিক আলোকিত শতাব্দীর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিপরীত মেরুর যে কোনো ব্যক্তিকে নিজের ফেসবুক ওয়ালে স্ট্যাটাস দিয়ে প্রকাশ্যে পিঠের চামড়া তুলে নেয়ারও হুমকি দিতে কার্পণ্য করেননা এ মোহাম্মদ আলী।

