শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬

[the_ad id='15178']

র‌্যাব বিলুপ্ত করে আসছে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’

নিজস্ব প্রতিবেদক

এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

- Advertisement -

খসড়া আইনে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে এসআরবিকে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাহিনীটির নেতৃত্বে থাকবেন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। সদর দপ্তর থাকবে ঢাকায়, তবে দেশের যেকোনো স্থানে ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠনের সুযোগ থাকবে।

- Advertisement -shukee

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জনমত গ্রহণ শেষে খসড়াটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামতের জন্য পাঠানো হবে। পরে মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে এটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে। আইন কার্যকর হলে র‌্যাব-সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামো বিলুপ্ত হবে। তবে নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত আগের কিছু বিধান কার্যকর থাকবে।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবির নিজস্ব লোগো, পতাকা ও নির্ধারিত পোশাক থাকবে। শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও প্রেষণে সদস্য নিয়ে ইউনিটটি গঠন করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের ন্যূনতম মেয়াদ দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

নতুন বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য দমন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা প্রদান।

এ ছাড়া আদালত, সরকার বা পুলিশের মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে এসআরবির। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে সদস্যরা নির্ধারিত ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার করতে পারবেন। তদন্তের জন্য থাকবে নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদকক্ষ।

খসড়া আইনের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে রাখা হয়েছে একটি অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। বাহিনীর বিরুদ্ধে নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত, প্রয়োজনে অনুসন্ধান দল গঠন এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে এই কমিটি। কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার বা আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন সরকার মনোনীত সদস্য থাকবেন।

এছাড়া বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, পদায়ন, পদোন্নতি, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অনিয়মসংক্রান্ত অভিযোগও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে।

খসড়া আইনে সদস্যদের জন্য বিস্তারিত শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, মাদকাসক্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অবৈধ অর্থ আদায়, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা কিংবা জুয়াসহ অন্যান্য বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

আইন কার্যকর হলে র‌্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে।

খসড়া আইন বিশ্লেষণে দেখা যায়, অতীতে র‌্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার নতুন নামে ও নতুন আইনি কাঠামোতে বাহিনীটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে নাম ও সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের পাশাপাশি বাহিনীর অভিযান, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও তদন্তের মৌলিক ক্ষমতার বেশির ভাগই বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে জবাবদিহি বাড়াতে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি এবং আরও সুস্পষ্ট শৃঙ্খলাবিধি সংযোজন করা হয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও