চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ঘাটঘর এলাকায় বসতবাড়ির নিচতলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রাখার দায়ে মেসার্স ইউনুছ এন্টারপ্রাইজের মালিক সিরাজ সওদাগরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার ( ৭ মে ) দুপুরে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফখরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এখানকার ঘাটঘর এলাকার একটি বসতবাড়ির নিচতলায় যথাযথ অনুমোদন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বিপজ্জনকভাবে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছিল।
বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করলে প্রশাসনের নজরে আসে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে গোডাউনে বিপুলসংখ্যক গ্যাস সিলিন্ডার মজুত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা কিংবা প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের ঘাটতি ছিল বলেও জানা গেছে।
বসতবাড়ির নিচতলায় এ ধরনের দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার সংরক্ষণের দায়ে মেসার্স ইউনুছ এন্টারপ্রাইজকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর সতর্কবার্তাও দেয়া হয়েছে।
ইউএনও ফখরুল ইসলাম বলেন, “ লাইসেন্সের শর্তানুসারে মোট ৪০ টি সিলিন্ডার রাখার অনুমোদন রয়েছে তাদের। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির গুদামে তল্লাসী চালাতে গিয়ে দেখা যায় কয়েক হাজার সিলিন্ডার মজুত রাখা হয়েছে। আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড কিংবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ ও অনিরাপদ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


