চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নার্সিং ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কসোভো প্রজাতন্ত্রের সাথে কাজ করতে চান। কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জনশক্তি তৈরিতে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (৭মে) বিকালে টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ের মেয়র মহোদয়ের কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা (Lulzim Pllana) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে মেয়র বলেন, আমি লন্ডন এবং কানাডার মন্ট্রিলে ভ্রমণকালে দেখেছি, সেখানে দক্ষ নার্সদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই কারণে আমি চাচ্ছি চট্টগ্রাম শহরে আন্তর্জাতিক মানের নার্সিং শিক্ষার অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দক্ষ নার্স গড়ে তুলতে। এর মাধ্যমে একদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব, পাশাপাশি চট্টগ্রামের স্বাস্থ্যসেবার মানও উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে আমরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবো, তেমনি স্থানীয় হাসপাতালগুলোতেও প্রশিক্ষিত নার্সের সংকট দূর হবে। এ ব্যাপারে কসোভা আমাদের সহযোগিতা করতে পারে।
জবাবে রাষ্ট্রদূত মেয়রকে বাংলাদেশে টেলিমেডিসিন খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ডা. রিফাত লতিফি’র সহযোগিতা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে বলেন, বিশ্বখ্যাত টেলিমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও ইন্টারন্যাশনাল ভার্চুয়াল ই-হসপিটাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ডা. রিফাত লতিফি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। কসোভোতে জন্ম নেওয়া এই চিকিৎসক যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্গম এলাকায় টেলিমেডিসিন নেটওয়ার্ক স্থাপন করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব ও স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা দূর করতে তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। ডা. লতিফি’র উদ্ভাবিত টেলিমেডিসিন মডেল ব্যবহার করে চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও চরাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের কাছে কম খরচে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে রাষ্ট্রদূত আশাবাদ ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত এ ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করেন।
চট্টগ্রামের পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে কসোভোর রাষ্ট্রদূত কসোভোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনকালে কসোভোতে নদ-নদী পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। তখন কসোভো সরকার নদীগুলো যাতে অপরিচ্ছন্ন না হয় সেজন্য কঠোর আইন প্রণয়ন করে এবং তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে। এর ফলে কসোভো তাদের নদীগুলোকে স্বচ্ছ ও দূষণমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে এখানে প্রচুর নদী-নালা, খাল-বিল রয়েছে। এই জলাধারগুলোর স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে কসোভোর মতো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগ করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, কসোভো একটি কেন্দ্রীয় সিস্টেম গড়ে তুলেছে যার মাধ্যমে দেশটির সব কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে কসোভো থেকে যারা কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়, তারা যে সার্টিফিকেট লাভ করে সে সার্টিফিকেট দিয়ে জার্মানি, সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পায়। বাংলাদেশও চাইলে কসোভোর এই অভিজ্ঞতা গ্রহণ করে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে পারে বলে তিনি মত দেন।
সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সময় চট্টগ্রামের উন্নয়ন, নগর ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও মতবিনিময় হয়। মেয়র চট্টগ্রাম শহরের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ।
ক্যাপশন-চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে কসোভো প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা (Lulzim Pllana) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

