চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চট্টগ্রাম এমন এক নগরী যেখানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে বহুদিন ধরে সম্প্রীতির বন্ধন বজায় রেখেছে। এই ঐতিহ্যকে নষ্ট করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে। কারো উস্কানিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা যাবেনা। সব ধর্মের মানুষের জন্য সাম্য নিশ্চিত করতে হবে, সবাইকে নিয়ে গড়তে হবে সেফ সিটি।
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা-২৫৭০ বুদ্ধবর্ষ উদযাপন ও বিশ্ব শান্তি কামনায় চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে শান্তি শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা। “যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, বিশ্ব শান্তি ও মানবতার জন্য সম্প্রীতি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার সকালে নগরীর ডি.সি. হিল চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শান্তি শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে নন্দনকাননের বৌদ্ধ মন্দির প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমি সব ধর্মের মানুষদের জন্য চট্টগ্রামকে একটি ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়তে চাই। আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ সাম্যের বাংলাদেশ। আমরা কবি নজরুলের গাহি সাম্যের গান-মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহিয়ান্ এই চেতনাকে লালন করি। আমাদের লক্ষ্য সমাজকে এমনভাবে বিনির্মাণ করা যেখানে সব ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে।”
অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, “গৌতম বুদ্ধের অহিংসা, মৈত্রী ও মানবতার শিক্ষা আজও বিশ্বকে শান্তির পথ দেখায়। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ, সংঘাত ও সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বুদ্ধের শান্তির বাণী আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ নয় শান্তি চাই—এই আহ্বানকে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সকল ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করাই আমাদের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
ক্লিন সিটি গড়ার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, “সব ধর্মেই পরিচ্ছন্নতার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইসলাম, বৌদ্ধ, হিন্দু ও খ্রিস্টান—সব ধর্মেই বলা হয়েছে, পরিচ্ছন্নতা ঈমান ও মানবতার অঙ্গ। তাই নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নাগরিক দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে এবং বর্জ্য যথাস্থানে ফেলতে হবে। চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রীন, হেলদি ও সেইফ সিটিতে রূপান্তর করতে নাগরিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি-যুব ও বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি-মহিলার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রিটন কুমার বড়ুয়ার সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান অমরেশ বড়ুয়া, অসীম বড়ুয়া, রুবেল বড়ুয়া হৃদয়, সুমন বড়ুয়া, কেমি বড়ুয়া, নেভী বড়ুয়া, রুপ্তা বড়ুয়া, বাপ্পিসহ বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। শান্তি শোভাযাত্রায় বিভিন্ন বয়সী ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ অনুসারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে বিশ্ব শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণ কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

